শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদে মোদীর ভূয়সী প্রশংসা মীরওয়াইজ ফারুকের, শান্তির নতুন পথের ইঙ্গিত?

জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করলেন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক। শান্তি বজায় রাখা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর গৃহীত নীতি ও সংলাপের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
সংলাপই শেষ কথা: শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মীরওয়াইজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়তো দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যা সমাধানই একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।” অতীতে অটল বিহারী বাজপেয়ী, এল. কে. আদবানি এবং ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও সংলাপ অবিশ্বাস দূর করতে সাহায্য করে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলেও সেই একই ‘সংলাপের চেতনা’ দেখার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
বৈশ্বিক সংকটের উদাহরণ: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে মীরওয়াইজ বলেন, সামরিক শক্তি বা যুদ্ধের মাধ্যমে কখনোই স্থায়ী শান্তি আসে না। তাঁর কথায়, “সম্পদের অপচয় এবং অমানবিক দুর্ভোগের পর শেষ পর্যন্ত সব পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরতে হয়। এটি কোনো পক্ষের দুর্বলতা নয়, বরং বিচক্ষণতার পরিচয়।” শান্তি স্থাপনের জন্য পাকিস্তান ও কাতারসহ আন্তর্জাতিক শক্তির প্রচেষ্টাকেও তিনি সাধুবাদ জানান।
কারবালার শিক্ষা: মহররমের পবিত্র মাসে দাঁড়িয়ে কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম হুসাইন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য, ধৈর্য এবং ন্যায়ের বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বার্তা দেন যে, মতপার্থক্য মেটাতে অস্ত্রের চেয়ে সৎ এবং গঠনমূলক আলোচনাই উত্তম।
শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদে দাঁড়িয়ে মীরওয়াইজ ফারুকের এই বক্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।