ভোটকুশলী থেকে নেতা: বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে নিজেই লড়বেন প্রশান্ত কিশোর? জল্পনা তুঙ্গে

পর্দার আড়ালে থেকে কৌশল তৈরি নয়, এবার সরাসরি ভোটের ময়দানে নামার ইঙ্গিত দিলেন ভারতের অন্যতম পরিচিত ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (PK)। বিহারের হাই-প্রোফাইল বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে ‘জন সুরজ’ পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘোষণা বিহারের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
কেন এই সাহসী পদক্ষেপ? বাঁকিপুর বিজেপি-র একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত কিশোরের দাবি, এই উপনির্বাচন আসলে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সরকারের কাজের ওপর এক ধরণের ‘গণভোট’ বা রেফারেন্ডাম। পিকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল যদি অনুমোদন দেয় এবং তাঁর প্রার্থী হওয়া যদি বিজেপির এই শক্ত ঘাঁটি ভাঙতে সাহায্য করে, তবে তিনি লড়তে পুরোপুরি তৈরি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, “বাঁকিপুরে বিজেপির জয়রথ থামানোই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষা ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘জন সুরজ’ পার্টি খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, এবারের উপনির্বাচন পিকে-র জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি আসন জয়ের লড়াই নয়, বরং তাঁর নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের সাংগঠনিক শক্তির এক কঠিন ‘লিটমাস টেস্ট’।
মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ নির্বাচনী ময়দানে নামার ইচ্ছার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে একহাত নিয়েছেন পিকে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে উন্নয়ন থমকে আছে এবং নীতীশ কুমারের নাম ভাঙিয়ে ভোট নেওয়া ছাড়া সরকারের অন্য কোনো বড় সাফল্য নেই। তিনি দাবি করেছেন, বাঁকিপুরের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং জন সুরজ পার্টি সেই পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়েই মাঠে নামছে।
এখন দেখার বিষয়, একজন ভোটকুশলী যখন নিজে প্রার্থী হন, তখন সাধারণ ভোটাররা তাঁর ওপর কতটা আস্থা রাখেন। বাঁকিপুরের এই লড়াই বিহারের আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।