অযোধ্যায় বড়সড় দুর্নীতি! রাম মন্দিরের অছি পরিষদ থেকে পদত্যাগ চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের

রাম মন্দিরের পবিত্রতা ও আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। রাম মন্দিরের প্রণামী বাক্স থেকে দিনের পর দিন টাকা চুরির যে অভিযোগ উঠেছিল, তার তদন্তে বেরিয়ে এল এক নিপুণ কৌশলের কথা। সিসিটিভি ক্যামেরার চোখে ধুলো দিয়ে, কর্মীদের একটি অংশ কীভাবে বছরের পর বছর টাকা সরিয়েছে, তার বিবরণ এখন তদন্তকারীদের হাতে।

চুরির অভিনব কৌশল এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দিরের ভেতরে টাকা গোনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের একাংশই এই চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। চুরির এই চক্রে ছিল এক সুপরিকল্পিত ছক:

  • সিসিটিভির আড়াল: একজন কর্মী সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভিউ ব্লক করতেন, যাতে অন্যজন নিশ্চিন্তে প্রণামী বাক্স থেকে টাকা বের করতে পারে।

  • লুকানোর জায়গা: চুরি করা টাকা নিয়ে যাওয়া হতো মন্দিরের বাথরুমে। সেখানে লুকিয়ে রাখা হতো সেই অর্থ, যা পরে পাচার করা হতো। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে মন্দিরের তহবিলের বিশাল অংশ হাতবদল হয়ে আসছিল।

মন্দির পরিচালনায় বড় রদবদল এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মন্দির কর্তৃপক্ষের অন্দরে শোরগোল পড়ে গেছে। নৈতিক দায়ভার গ্রহণ করে মন্দির অছি পরিষদ (Trust) থেকে পদত্যাগ করেছেন চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র। এই পদক্ষেপকে ঘিরে ভক্তমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

তদন্ত ও গ্রেফতারি এই পুরো চক্রের সন্ধানে উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন যে, এই দুর্নীতিতে কেবল কর্মীরাই যুক্ত, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রভাবশালী চক্র রয়েছে। রাম মন্দিরের মতো জায়গায় এমন সুরক্ষা ও তদারকির গাফিলতি কীভাবে চলল, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *