তৃণমূল ছাড়লেন কাউন্সিলর! পকেটে ইস্তফাপত্র নিয়ে ঘুরছেন বিশ্বরূপ, তোলপাড় রাজনৈতিক মহলে

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন কলকাতা পুরনিগমের প্রাক্তন কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। পকেটে ইস্তফাপত্র নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গেই তিনি জানালেন, “যে উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে এসেছিলাম, সেই দল এখন পুরোপুরি পথভ্রষ্ট।” তার এই ঘোষণা ঘিরে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্বরূপবাবু ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “রাজনীতি করতে এসেছিলাম মানুষের পাশে দাঁড়াতে, ধান্দাবাজি করতে নয়। বিগত সাড়ে চার বছর ধরে পুরনিগমের অভ্যন্তরে থেকে কলকাতার মানুষের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছি। ১২৪টিরও বেশি প্রশ্ন করেছি, কিন্তু কোনোটারই মূল্যায়ন হয়নি।”
তারাতলা ও গার্ডেনরিচের ঘটনা কি অনুঘটক? পুর-পরিকাঠামো নিয়ে বারবার সরব হলেও প্রশাসনের কর্ণধাররা তাঁর কথায় গুরুত্ব দেননি বলেই অভিযোগ বিশ্বরূপের। তিনি বলেন, “পুরনিগমে কোনো স্থায়ী আর্কিটেক্ট নেই। এলবিএস-দের ওপর নজরদারি নেই। তারাতলা বা গার্ডেনরিচের মতো ঘটনাগুলো আসলে প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। এই ঘটনার পর আর মানুষের কাছে মুখ দেখানো যায় না। তাই ইনিংস শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।”
তৃণমূল এখন তিন টুকরো! দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চরম হতাশ প্রাক্তন এই কাউন্সিলর। তাঁর কথায়, “আজ তৃণমূল তিনভাগে বিভক্ত। আমার সাংসদ অন্য পথে, বিধায়ক কালীঘাটপন্থী, আবার অন্য পক্ষ মহানাগরিকের ঘনিষ্ঠ। আমি কার কথা শুনব? এই বিভ্রান্তিকর পরিবেশে কাজ করা অসম্ভব।”
ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি নিশানা শহরের পুর-প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দায়সারা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বিশ্বরূপবাবু। তাঁর সাফ কথা, “পুরপ্রধান হয়ে যদি বলেন নজরদারি আমার দায়িত্ব নয়, তবে দায়িত্বটা কার? ওয়ার্ডে ময়লা জমলে কাউন্সিলর দায় এড়াতে পারেন না, আর মেয়র কেন এড়াবেন?”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? তৃণমূল ছেড়েছেন, তবে কি বিজেপিতে যাচ্ছেন? এই প্রশ্নে বিশ্বরূপবাবু সরাসরি উত্তর না দিয়ে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন। তবে তাঁর কথায় স্পষ্ট, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলে দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছে।