বিশেষ: ১০ হাজার টাকায় শুরু আচারের ব্যবসা, প্রতিমাসে উপাৰ্জন করুন ২৫,০০০ টাকা

ব্যবসা করার জন্য একটু বিচক্ষণতার প্রয়োজন রয়েছে। মানুষের মধ্যে যে জিনিসগুলোর চাহিদা আছে, সেটাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা দাঁড় করাতে পারলেই বাজার রমরমা। যেমন প্রত্যেকের বাড়িতেই আচার খাওয়ার একটা চল রয়েছে। তাই অনেকেই আচার বাড়িতে তৈরি করে নেন।
এর বাইরেও এমন বহু মানুষ রয়েছেন যারা বাড়িতে আচার তৈরি করার ঝামেলা নিতে চান না। এছাড়াও বাড়িতে সব রকম আচার তৈরি করাও সম্ভব নয়। তাই বাজারের উপরেই ভরসা করতে হয় তাদের। এমনকি অনেকে বিদেশে গিয়েও খাবারের সঙ্গে একটু আচার খোঁজেন। তাদের কারণে ব্যবসাটি বিদেশ পর্যন্ত ছড়ানো।

আচার তৈরির ব্যবসা আপনিও শুরু করতে পারেন। তাতে প্রাথমিকভাবে খুব জোর ১০ হাজার টাকা আর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে।

পুঁজি

আপনি যদি ছোটখাটো আচারের ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে দশ হাজার টাকাই যথেষ্ট। আর বৃহৎ আকারে ব্যবসাটি শুরু করতে চাইলে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে ৫০ হাজার টাকা। আচার তৈরি করা এমন একটি ব্যবসা যেখানে আপনি যতটা কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারবেন ততটাই আচার উৎপাদিত হবে । কাজেই পুরোটাই আপনার নিয়ন্ত্রণে। আর একেবারে অল্প কাঁচামাল দিয়েও এই ব্যবসা শুরু করা যায়।

কাঁচামাল

আপনি যে যে ফল কিংবা সবজির আচার তৈরি করতে চাইবেন সেগুলোই হবে আপনার কাঁচামাল। যেহেতু বাংলাদেশে বহু রকমের আচারের প্রচলন রয়েছে, তাই সব একসঙ্গে তৈরি করা সম্ভব নয়। বিশেষত্ব হিসেবে কয়েকটি আচার বেছে নিন যেগুলি তৈরি করতে পটু আপনি।

আচার তৈরির প্রশিক্ষণ

ব্যবসা শুরু করতে গেলে সর্বপ্রথম সেই ব্যবসার কাজ নিজেকেই করতে হয়। আর আপনি যদি নিজে আচার না তৈরি করতে পারেন তাহলে কর্মচারী দিয়েও ভালো ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব হবে না। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কিংবা গ্রামের অভিজ্ঞদের কাছ থেকে আচার তৈরি করার ট্রেনিং নেয়াই যায়।

কীভাবে তৈরি করবেন ?

ছোট ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথমত বাড়ি থেকেই শুরু করা ভালো। অল্প অল্প কাঁচামাল দিয়ে আচার তৈরি করুন। সেগুলি প্রতিদিন নিয়ম করে রোদে রাখুন। তবে প্যাকেজিং-এর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাজে প্লাস্টিকে যদি প্যাকেজিং করা হয়, তাহলে শুরুতেই ক্রেতা হারাবেন। এমন কন্টেইনার ব্যবহার করুন যেগুলো স্বচ্ছ এবং ভালো মানের। সঠিক ওজন করে কোম্পানির নাম দেওয়া লেভেল গায়ে লাগিয়ে এক্সপায়ারি ডেট হিসাব করে তবে মাল বিক্রি করুন।

কীভাবে মার্কেটিং করবেন ?

ছোট ছোট আচার ব্যবসায়ীদের আচার তৈরি করে আপনি পাইকারি দামি বিক্রি করতে পারেন। এলাকায় থাকা দোকানে আচার প্যাকেটে কিংবা জারে করে বিক্রি করতে পারেন। কোন রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে আচার দিতে পারেন। এছাড়াও সুপার মার্কেটগুলোতে আচার বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটার দিয়ে আপনি নিজে নিজের তৈরি আচার বিক্রি করতে পারেন। বড় বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোকেও ব্যবহার করতে পারেন নিজের ব্যবসার জন্য।

লাভ কেমন

এই ব্যবসায় লাভ পুরোপুরি নির্ভর করবে আপনার তৈরি করা আচারের মানের ওপর। সবচেয়ে কোয়ালিটির আচার গ্রাহকদের হতে পৌঁছে দিতে পারলেই গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। অর্ডারের পরিমাণ ও লাভ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *