রাজ্যের দপ্তরে দপ্তরে স্বচ্ছতা! শ্বেতপত্র প্রকাশের বড় ঘোষণা বিধানসভায়

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বুধবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করলেন, রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরের কাজকর্ম, আর্থিক লেনদেন ও ব্যয়ের খতিয়ান জনসমক্ষে আনতে শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশ করা হবে।
কেন এই পদক্ষেপ? গত বেশ কিছু সময় ধরে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সেই আবহে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই শ্বেতপত্র অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার শুধু প্রকল্পের সাফল্যই প্রচার করবে না, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল এবং কোথায় খামতি থেকেছে—তার প্রকৃত চিত্রও শ্বেতপত্রের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
মূল যে বিষয়গুলিতে নজর দিচ্ছে সরকার:
-
শ্বেতপত্র প্রকাশ: প্রতিটি দপ্তরের কার্যক্রম, প্রকল্প রূপায়ণ এবং ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হবে।
-
নিরপেক্ষ মূল্যায়ন: সরকারি অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে, তা যাচাই করতে নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক বা ‘সিএজি’ (CAG)-এর রিপোর্টকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
-
বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ: সিএজি রিপোর্টগুলো বিধানসভায় পেশ করা হবে, যাতে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও নজরদারি সম্ভব হয়।
প্রশাসনের স্বচ্ছতাই লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রীর কথায়, “সরকারের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের আস্থা অর্জন করা। তথ্যভিত্তিক জবাব দিলে দুর্নীতির সব ধোঁয়াশা দূর হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে শ্বেতপত্র ও সিএজি রিপোর্ট—এই দুই অস্ত্রের প্রয়োগ প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা ফেরাতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।