ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জয়! স্ত্রীর কল রেকর্ড চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ স্বামী, খারিজ করে দিল দিল্লি কোর্ট

গভীর রাতে কোনো পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বললেই কোনো নারীর চরিত্র কলঙ্কিত হয়ে যায় না। শুধু এই সন্দেহের বশে কোনো স্ত্রীর ব্যক্তিগত কল রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখার অধিকার স্বামীকে দেওয়া যায় না। গার্হস্থ্য হিংসার একটি মামলার শুনানিতে দিল্লির একটি সেশন কোর্ট এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট পারিবারিক বিবাদের জেরে এক ব্যক্তি নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অতিরিক্ত দায়রা জজ সোনালি গুপ্তার এজলাসে আপিল করেছিলেন। স্বামীর অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রী গভীর রাত পর্যন্ত অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাই স্ত্রীর ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) সংরক্ষণ করার জন্য তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, প্রমাণ করা যে স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত।

আদালতের ঐতিহাসিক মন্তব্য বিচারপতি সেশন কোর্টের এই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত পরকীয়া সম্পর্কের কোনো জোরালো প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ কেবল রাতে ফোনে কথা বলার ভিত্তিতে কারও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “ভারতীয় সমাজ আর আদিম যুগে পড়ে নেই, যেখানে ছেলে-মেয়েদের কথোপকথনকে অপরাধ বা চরিত্রহীনতার লক্ষণ হিসেবে বিচার করা হবে।”

গোপনীয়তার অধিকার (Right to Privacy) আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, কোনো যৌক্তিক এবং সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় এভাবে হস্তক্ষেপ করা যায় না। এটি সংবিধান প্রদত্ত গোপনীয়তার অধিকারের পরিপন্থী। নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রেখে উচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, সন্দেহের বশে কারো ওপর নজরদারি চালানো বা ব্যক্তিগত তথ্যে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি আইন দিতে পারে না।

এই রায় নারী-পুরুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *