জাল দলিল, সরকারি জমি বিক্রি! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে নিয়ে আদালতে বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় আইনি জালে আরও জড়িয়ে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। আগাম জামিনের আবেদনের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন তিনি। সোমবার পর্যন্ত তাঁর জামিনের কোনো সুরাহা মেলেনি, ফলে আপাতত স্বস্তি অধরাই রইল।

আদালতে যা বললেন বিচারপতি: মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

  • অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরকারি জমি জাল দলিল তৈরি করে বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।

  • পুলিশ ইতিমধ্যেই ১০টি জাল দলিল এবং বিএলআরও-র সিল-সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে।

  • ১০ লক্ষ টাকার ওই জমি বিক্রির অর্থ সুজয় হাজরার হাত ঘুরে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছত বলে পুলিশের বয়ানে স্পষ্ট।

আদালতে ‘বিতর্কিত’ সওয়াল ও বিচারপতির বিস্ময়: শুনানির সময় বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ হয়ে সুমিত রায় কীভাবে রাজ্য সরকারের হয়ে কাজ করেন? এই প্রশ্নের জবাবে সুমিত রায়ের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই তিনি ‘সরকারের হয়ে কাজ’ হিসেবে বোঝাতে চেয়েছেন।

এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বিচারপতি বলেন, “রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট কাজকে আপনি সরকারের কাজ বলতে পারেন না।” অভিযুক্তের হলফনামার ওপর ভিত্তি করে পুলিশের তদন্ত পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “অভিযুক্তের দাখিল করা হলফনামার ওপর যদি পুলিশকে তদন্ত করতে হয়, তবে ভগবান জানেন তার পরিণতি কী হবে!”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *