মৃত কর্মীর চাকরির ফাইল আটকে ৭ বছর: সমাধানের আশায় সল্টলেকের ‘জনতার দরবারে’ মীনাক্ষী

সাতটি বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সুরাহা। নবান্নের লাল ফিতের ফাঁস এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আজও অমীমাংসিত থেকে গেছে এক মৃত সরকারি কর্মীর বিধবা স্ত্রীর চাকরির ফাইলটি। অবশেষে, নিজের সমস্যার সমাধানের শেষ আশা নিয়ে সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয়ে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা মীনাক্ষী দাস।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: মীনাক্ষী দাসের স্বামী অয়ন দাস বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গ্রুপ-ডি পদে কর্মরত ছিলেন। মাত্র আট বছর চাকরিরত অবস্থায় তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর, পরিবারের হাল ধরতে নিয়ম মেনে রাজ্য সরকারের কাছে মীনাক্ষী চাকরির আবেদন জানিয়েছিলেন। জমা দিয়েছিলেন প্রয়োজনীয় সব নথিপত্রও। তাঁর অভিযোগ, বিগত সাত বছর ধরে তিনি বারবার নবান্নে গিয়েছেন, কিন্তু কেবল মুখ্যমন্ত্রীর একটি সইয়ের অভাবে আজও তাঁর ফাইলটি স্বরাষ্ট্র দফতরে আটকে রয়েছে।

‘জনতার দরবার’ থেকে প্রত্যাশা: সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সল্টলেকের বিজেপির পার্টি অফিসে এই বিশেষ ‘জনতার দরবার’-এর আয়োজন করেছেন। মীনাক্ষী দাস সেখানে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর সমস্যার কথা জানান। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের হাতে আঁকা একটি ছবিও উপহার দেন মীনাক্ষী।

দশম শ্রেণিতে পাঠরতা মীনাক্ষীর মেয়েও মায়ের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিল। সাত বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং সরকারি দফতরে দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো ফল না মেলায় তাঁরা আজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মীনাক্ষীর কথায়, “সাত বছর ধরে নবান্নের দরজায় দরজায় ঘুরেছি। আজ মুখ্যমন্ত্রীকে সব জানালাম, আশা করি এবার সমস্যার সমাধান হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফাইলটি দ্রুত খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। সাত বছর ধরে আটকে থাকা এই ফাইলটি কি অবশেষে ছাড়পত্র পাবে? এখন সেই দিকেই তাকিয়ে আছে অয়ন দাসের পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *