হড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ৫ তলা উঁচু কাঠামো! চোখের সামনে ধ্বংসলীলা দেখলেন তারাতলার বাসিন্দারা

চোখের নিমেষে যেন সব শেষ! মঙ্গলবার দুপুরে তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গেল, তার রেশ এখনো কাটেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের মন থেকে। দুপুরের শান্ত পরিবেশ এক নিমেষেই বদলে যায় মৃত্যুপুরীতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এল সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা।
ভূমিকম্পের মতো শব্দ, তারপর সব ধুলোয় ঢাকা
ঘটনাস্থলের পাশেই ছিল একটি চায়ের দোকান। সেখানকার আধিকারিক উজ্জ্বল কুমার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিউরে উঠছেন। তিনি বলেন, “ঘড়িতে তখন ঠিক ১২টা ৭ মিনিট। হঠাৎই বিকট শব্দ হলো। মনে হলো যেন ভূমিকম্প হচ্ছে! মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে ধুলোর আস্তরণ পড়ে গেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলাম আস্ত গোডাউনটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।”
একই কথা জানালেন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের নিরাপত্তারক্ষী অশোক কুমার রায়। তিনি বলেন, “চোখের সামনে যা দেখলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। লোহার বিম আর কংক্রিটের চাপে মুহূর্তের মধ্যে সব চাপা পড়ে গেল।”
শ্রমিকদের লড়াই ও প্রিয়জনদের হাহাকার
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই নির্মীয়মাণ এই কাঠামোটি দুলছিল বলে অভিযোগ। শ্রমিকরা সেই ত্রুটি পরীক্ষা করতে ভেতরে গিয়েছিলেন। আর তখনই ঘটে সেই অঘটন। উদ্ধারকাজ শুরু হতেই দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় জমান নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। এক যুবক কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাঁর মাসি ওই গুদামে কাজ করছিলেন। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় ধ্বংসস্তূপের সামনে হাহাকার করছেন বহু মানুষ।
উদ্ধারে সেনা ও NDRF
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতেই তলব করা হয় ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (NDRF)। দমকল ও কলকাতা পুলিশও তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজে নেমেছে। একাধিক হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করে লোহার ভারী বিম সরানোর চেষ্টা চলছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে গ্যাস কাটার এবং ভার্টিক্যাল ড্রিলিংয়ের সাহায্য নিচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সংশ্লিষ্টরা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। আপাতত উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য একটাই—ধংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রতিটি প্রাণকে দ্রুত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা।