তৃণমূলের ব্যাঙ্কে তালা, নির্বাচন কমিশনে দুই গোষ্ঠী, দলের দখল কার হাতে?

১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনকালের অবসানের পর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হারের ক্ষত না শুকাতেই চরম সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে ক্ষমতার দখলকে কেন্দ্র করে এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত রাজ্যের শাসকদল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত গোষ্ঠী, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির—উভয়েই এখন ‘আসল তৃণমূল’ হওয়ার লড়াইয়ে মরিয়া।
নির্বাচন কমিশনে দুই মেরু দলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা এখন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে পড়েছে। উভয় গোষ্ঠীই পৃথকভাবে নিজেদের কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের বৈধতা প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাল্টা জবাবে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির একটি ‘বিশেষ অধিবেশন’ ডেকে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে তাদের শিবিরের ‘চেয়ারম্যান’ ঘোষণা করেছে।
আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা, জটিলতা তুঙ্গে লড়াই শুধু নীতি বা পদ নয়, পৌঁছেছে দলের কোষাগার পর্যন্ত। দলের প্রধান তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ওপর লেনদেনের বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও প্রকট হয়েছে। আর্থিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে দুই পক্ষই এখন সর্বোচ্চ আইনি তৎপরতা চালাচ্ছে।
কার দিকে পাল্লা ভারী? বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বর্তমান বিধায়ক, পঞ্চায়েত এবং পুরসভার প্রতিনিধিদের সিংহভাগই তাদের পাশে রয়েছে। অন্যদিকে, মমতা শিবিরের দাবি, দলের ৯০ শতাংশ তৃণমূল স্তরের কর্মী এখনও তাঁদের সঙ্গেই আছেন। ঋতব্রত শিবিরের আইনি লড়াইয়ের লক্ষ্য এখন দলের নাম ও প্রতীক।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের এই পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র ভাঙনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আইনত দল কার দখলে থাকবে, তা নির্ভর করবে বিধায়কদের সংখ্যার ওপর। এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজের দুর্গ অক্ষুণ্ণ রাখা। দল কি সত্যিই ভাঙনের মুখে, নাকি এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ—সেই উত্তরই এখন খুঁজছে বাংলার রাজনীতি।