পকেটে টাকা আছে, তবুও এসি ব্যবহার করেন না ফরাসিরা! তীব্র গরমেও কেন এই অনাগ্রহ?

ফ্রান্সজুড়ে চলছে চরম তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই, জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত, তবুও ফরাসিদের বড় একটি অংশের বাড়িতেই দেখা মেলে না শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির। এই অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব ও পরিবেশগত কারণ।
ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী: প্যারিসসহ ফ্রান্সের শহরগুলোতে বহু প্রাচীন ভবন রয়েছে। এই ভবনগুলোর দেয়াল অত্যন্ত পুরু এবং ছাদ অনেক উঁচু। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাইরের তীব্র রোদ ভেতরে না ঢোকে এবং ঘর প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা থাকে। এখনকার নতুন প্রযুক্তির এসি এই পুরনো স্থাপত্যের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো বেশ কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়সাপেক্ষ।
পরিবেশের প্রতি সচেতনতা: ফরাসিরা পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। এসি ব্যবহারের ফলে যে পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং কার্বন নিঃসরণ ঘটে, তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই ফরাসিরা এখনো এসি না কিনে পাখা, শাটার, ভারী পর্দা এবং প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের ওপরই বেশি ভরসা রাখেন। কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে অনেকে স্বেচ্ছাতেই এসির বিলাসিতা থেকে দূরে থাকেন।
নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া: গত কয়েক দশক আগেও ফ্রান্সে এতটা তীব্র গরম পড়ত না। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণের তালিকায় ছিল না। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি এখন দ্রুত পাল্টাচ্ছে। বর্তমানে ফ্রান্সের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়িতে এসি থাকলেও, সংখ্যাটি দ্রুত বাড়ছে। অফিস, শপিং মল বা নতুন তৈরি হওয়া বাড়িগুলোতে এখন এসির ব্যবহার প্রায় অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, তাপপ্রবাহের কারণে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, তবুও ফরাসিদের এই জীবনধারা ও পরিবেশগত সচেতনতা বিশ্বজুড়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।