কুণাল ঘোষের বক্তব্য চলাকালীন ‘চোর-চোর’ স্লোগান, বিধানসভায় তুলকালাম!

বিধানসভার বাজেট অধিবেশন ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনীতির ময়দান। মঙ্গলবার অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বক্তব্য রাখতে উঠলে বিধানসভা কক্ষ কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। কুণালের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষের তীব্র বিক্ষোভ এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা।
কী ঘটেছিল বিধানসভায়? এদিন রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা চলাকালীন কুণাল ঘোষকে বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়। তিনি মাইকের সামনে দাঁড়াতেই বিরোধী বেঞ্চ থেকে একের পর এক স্লোগান শুরু হয়। বিধায়করা উঠে দাঁড়িয়ে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। খোদ অধ্যক্ষের আসনের সামনে এসে এই ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বিধানসভা কক্ষে।
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া: নিজের বক্তব্যের শুরুতে বারবার বাধা পেয়ে মেজাজ হারান কুণাল ঘোষ। স্লোগানকারীদের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তাঁকে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ একাধিকবার বিধায়কদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানান এবং নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু বিরোধী বিধায়কদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে যায় বিধানসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম।
বিধানসভার অন্দরে অরাজকতা: বিধানসভার মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অধ্যক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে এই ধরনের স্লোগান এবং হইহট্টগোল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে বাজেট অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, অন্যদিকে এই তীব্র রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা—সব মিলিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত।
বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভায় কুণাল ঘোষকে ব্যক্তিগত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেই এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন বলেই অনেকে মনে করছেন। অধিবেশন শেষে বিরোধী ও শাসক দলের মধ্যেকার এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।