রেশন কার্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় বার্তা, রাজ্যবাসীকে হাই কোর্টে যাওয়ার নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ায় রেশন কার্ড বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা, তবে শীর্ষ আদালত বর্তমানে এই মামলা সরাসরি শুনতে অস্বীকার করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: রেশন কার্ড বাতিলের আশঙ্কা এবং খাদ্য দফতরের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, তা নিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিষয়টি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে বিবেচনার উপযুক্ত নয়। আদালত আবেদনকারীদের কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ, রেশন কার্ড সংক্রান্ত এই আইনি লড়াই এখন হাইকোর্টের ফ্লোরেই লড়তে হবে।

খাদ্য দফতরের নির্দেশিকা ও বিতর্ক: গত ৪ জুন রাজ্যের খাদ্য দফতর একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশিকায় প্রতিটি জেলাশাসককে ১৫ জুনের মধ্যে বিশেষ যাচাই অভিযান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের রেশন সুবিধা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটারদের চিহ্নিত করে রেশন কার্ডের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধী পক্ষ ও অধিকার কর্মীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ নাগরিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধা: নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, যা নিয়ে বড়সড় রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি মহলের দাবি, তালিকা থেকে ‘ভুয়ো’ নাম বাদ দেওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অংশ মাত্র।

আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ: ভোটের আবহে এই ধরনের তালিকা সংশোধন ও তার সাথে রেশন কার্ডের সংযোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলেছে। অনেকেরই প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় কারিগরি ত্রুটির কারণে নাম না থাকলে কেন তাঁদের খাদ্যের সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া হবে?

এখন দেখার, কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা উঠলে বিচারবিভাগ কী নির্দেশ দেয় এবং রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা কমাতে কোনো বাড়তি পদক্ষেপ নেয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *