কম খরচে দ্বিগুণ লাভ! পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষকদের জন্য এল জাদুকরী ধানবীজ ‘বিধান ধান-২৪’

র্ব মেদিনীপুরের কৃষকদের জন্য এল দারুণ সুখবর। এতদিন আমন ও বোরো মরশুমের জন্য চাষিদের আলাদা আলাদা ধানবীজের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু সেই চিরাচরিত নিয়ম বদলে দিতে জেলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র উদ্ভাবন করল এক যুগান্তকারী উন্নত জাতের ধান—‘বিধান ধান-২৪’। কম সময়ে অধিক ফলন এবং খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ জাতটি তৈরি করা হয়েছে।
‘বিধান ধান-২৪’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
-
স্বল্পমেয়াদী: প্রচলিত লাল স্বর্ণ ধান পাকতে যেখানে প্রায় ১৪০-১৫০ দিন সময় লাগে, সেখানে ‘বিধান ধান-২৪’ মাত্র ১২০ থেকে ১২৫ দিন অর্থাৎ ৪ মাসের মধ্যেই ঘরে তোলা সম্ভব।
-
রেকর্ড ফলন: কম সময় লাগলেও ফলনে কোনো খামতি নেই। এই জাতটি হেক্টর প্রতি প্রায় ৬ থেকে ৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
-
প্রতিকূল আবহাওয়ার বন্ধু: খরা বা কম জলের পরিস্থিতিতেও এই ধান বেশ সহনশীল। ফলে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চাষিদের ক্ষতির ঝুঁকি অনেক কম।
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ধান গাছের প্রধান শত্রু যেমন—পাতা ঝলসা, ব্লাস্ট এবং বাদামী দাগ রোগের বিরুদ্ধে এই ধান অত্যন্ত কার্যকরী।
-
গুণগত মান: এই ধানের হালিং ক্ষমতা ৮১% এবং মিলিং ক্ষমতা ৬৯%, যা বাণিজ্যিক দিক থেকেও কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।
কৃষকদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধান চাষ করলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে আসবে। যেহেতু অল্প সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়, তাই কৃষকরা একই জমিতে শস্য নিবিড়তা বাড়িয়ে আরও বেশি চাষ করার সুযোগ পাবেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক সমৃদ্ধি আসবে কৃষকদের পরিবারে।
পূর্ব মেদিনীপুরের মতো কৃষিপ্রধান জেলায় এই নতুন ধানের জাত আগামী দিনে চাষিদের মুখে হাসি ফোটাবে বলেই আশা করছে জেলা কৃষি দপ্তর।