বিশেষ: যে কারণে ৮৬ কোটির প্রসাদে নেই কোনো মানুষ, জেনেনিন সেই রহস্য

‘পরের জায়গা পরের জমিন ঘর বানাইয়া আমি রই, আমি তো সেই ঘরের মালিক নই,’ এই গানের সঙ্গে মিলে যাবে এই কাহিনী। ৩০ হাজার বর্গফুটের প্রাসাদোপম বাড়ি। ঝকঝক করছে সাদা মার্বেলের মেঝে। সব মিলিয়ে ১০টি শয়নকক্ষ রয়েছে অট্টালিকাটিতে। রয়েছে ১১টি বাথরুম। কিন্তু এতো বড় বাড়ির পুরোটাই ফাঁকা। কোনো মানুষ বসবাস করেন না সেখানে।
এমনই এক অট্টালিকাতে ঢুকে চমকে গেলেন দুই নেটপ্রভাবী। জেরেমি অ্যাবট ও বিগ ব্যাঙ্কস নামের দুই ইউটিউবার কৌতূহলবশত প্রবেশ করেছিলেন পরিত্যক্ত অট্টালিকাটিতে। কিন্তু কেন কোনো বাসিন্দা নেই বাড়িটির? নিজেরাই জানিয়েছেন প্রভাবীরা।

অ্যাবটের তোলা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অট্টালিকাটির ভেতরে রয়েছে বেশ কিছু দামি আসবাব, রয়েছে বড় মাপের টিভি এবং গাড়িও। বেশ কয়েক বাক্স দামি জুতাও দেখতে পেয়েছেন তারা। আলমারির ভেতরে মিলেছে পোশাকের ভান্ডার। পোশাক বা জুতার অধিকাংশই অব্যবহৃত। এমনকি, সেগুলোতে লাগানো রয়েছে দামের ট্যাগও। বাড়ির বাইরে রয়েছে একটি বাস্কেটবল খেলার কোর্ট।

অ্যাবট জানিয়েছেন, বাড়িটি যিনি তৈরি করেন তিনি দেশের প্রথম সারির এক শল্যচিকিৎসক ছিলেন। চার সন্তানের বাবা ঐ চিকিৎসক অবসর সময় বিমান চালতেন। ২০০৬ সালে পরিবারের জন্য এই বাড়িটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সময় বাড়িটি তৈরির খরচ ধরা হয় এক কোটি মার্কিন ডলারের মতো।

তবে বাড়ির কাজ যখন প্রায় শেষ তখনই একটি বিমান দুর্ঘটনায় ঐ চিকিৎসক ও তার এক পুত্রের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের মৃত্যুর পর নির্মাতা সংস্থার পাওনা প্রায় ৬৬ কোটি টাকা মেটাতে হিমসিম খেতে শুরু করে তার পরিবার। পাশাপাশি এই বিশাল বাড়ির জন্য প্রচুর টাকা করও জমা করতে হয়। সেই টাকাও তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয় তাদের।

সূত্র: আনন্দবাজার

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *