‘গোপাল পাঁঠা’র নামে নামকরণ পার্ক সার্কাসে, বিতর্ক উসকে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে ‘গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড’ করার সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভা। ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত গোপাল মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে এই নামকরণের সিদ্ধান্তকে ‘ইতিহাসের সংশোধন’ বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও নামকরণের প্রেক্ষাপট শনিবার পুরসভার বিজ্ঞপ্তির পর রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নাম মুছে সাহস ও রক্ষকের প্রতীক গোপাল মুখোপাধ্যায়কে সম্মান জানানো হলো।” প্রসঙ্গত, ১৯৪৬-এর ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’-এর সময় গোপাল মুখোপাধ্যায় হিন্দুদের সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে ইতিহাসে পরিচিত।
বিতর্কের মূলে ইতিহাস মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিরোধীদের একাংশের দাবি, বর্তমান সরকার সম্ভবত হোসেন শহিদ সুরাবর্দির (যিনি ১৯৪৭ সালের দাঙ্গার সঙ্গে অভিযুক্ত) নামের সঙ্গে এই রাস্তাটিকে গুলিয়ে ফেলেছে। তবে ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এই রাস্তার নামকরণ হোসেন শহিদ সুরাবর্দির নামে নয়, বরং করা হয়েছিল স্যর হাসান সুরাবর্দির নামে।
কে ছিলেন স্যর হাসান সুরাবর্দি? পি থাঙ্কপ্পন নায়ারের ‘A History of Calcutta’s Streets’ গ্রন্থ অনুযায়ী, ১৯৩৩ সালে এই রাস্তার নামকরণ স্যর হাসান সুরাবর্দির সম্মানার্থে করা হয়। তিনি ছিলেন:
-
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য।
-
ইস্ট ইন্ডিয়া রেলের প্রথম চিফ মেডিক্যাল অফিসার এবং প্রখ্যাত সার্জন।
-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে বিশ্বভারতীর ‘নিজাম অধ্যাপক’।
-
ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধিপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব।
রাজনৈতিক চাপানউতোর এই নাম পরিবর্তন নিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এবং পবন খেরা তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁদের মতে, বিজেপির এই সিদ্ধান্তে চরম ঐতিহাসিক অজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। জয়রাম রমেশ মনে করিয়ে দিয়েছেন, স্যর হাসান সুরাবর্দির উত্তরসূরি হিসেবেই পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
ইতিহাসের নতুন মূল্যায়ন বনাম পুরোনো ঐতিহ্যের সংঘাত—এই নাম পরিবর্তন ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে এখন আলোচনার ঝড় উঠেছে। পুরসভার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।