বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানিতে বাধা! নেপালকে কড়া বার্তা ভারতের

 

আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড়সড় ধাক্কা। নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাতে সরাসরি ‘না’ বলে দিল ভারত। ভারতের ট্রান্সমিশন করিডর ব্যবহার করে বাংলাদেশে ২০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ পাঠানোর যে প্রস্তাব নেপাল দিয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। নয়াদিল্লির এই কঠোর অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? নেপালের প্রচুর জলবিদ্যুৎ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, ভারতের ভূখণ্ড ছাড়া সেই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পৌঁছানোর কোনো কার্যকর বিকল্প পথ নেই। কিন্তু ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। ভারতের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, “আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু আমাদের ট্রান্সমিশন লাইন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে আমরা বাধ্য।”

হতাশায় নেপাল ও বাংলাদেশ: ভারতের এই সিদ্ধান্তে চরম হতাশ নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রফতানির স্বপ্ন ভারতের এই বাধায় বড় ধাক্কা খেল। অন্যদিকে, বাংলাদেশেও এই বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে পরিবেশবান্ধব এই জলবিদ্যুৎ ছিল বাংলাদেশের জন্য এক বড় সুযোগ। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিকল্পনা কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ: বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত তার কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার বার্তা দিল। বিশেষ করে অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে ভারত যে তার প্রতিবেশী নীতি ও জ্বালানি বাণিজ্যের প্রতিটি খুঁটিনাটিতে নিজস্ব শর্ত বজায় রাখতে চায়, এই ঘটনা তারই প্রতিফলন।

এর আগে ভারত নিজে নেপাল ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও, তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি বরাবরই বেশ সতর্ক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত চায় এই ধরনের আঞ্চলিক প্রকল্পগুলো যেন তাদের নেতৃত্বেই এবং তাদের নিজস্ব শর্ত মেনেই পরিচালিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *