পারমাণবিক বোমা নয়, কিন্তু ইউরেনিয়াম নয় কেন? ট্রাম্প-প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার আগে গর্জে উঠলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই—এই বার্তা দিয়েও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষেত্রে একচুলও ছাড় দিতে রাজি নন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। আগামী রবিবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রাক্কালে প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আলোচনার মূল লক্ষ্য ও এজেন্ডা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনায় লেবানন পরিস্থিতি এবং ইরানের জব্দকৃত ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করাই হবে মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমেরিকা চায় আমরা যেন পরমাণু বোমা না বানাই। আমরা লিখিতভাবেও দিতে প্রস্তুত যে, আমাদের এমন কোনো লক্ষ্য নেই। কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার আমাদের বৈধ অধিকার, যা থেকে আমরা সরব না।”
নেতানিয়াহুর অস্বস্তি নিয়ে মন্তব্য ইরানের জব্দকৃত ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ফেরত পাওয়া নিয়ে পেজেশকিয়ান বেশ আশাবাদী। তিনি সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই সমঝোতা ও আলোচনার সাফল্য দেখে সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হবেন তিনিই।” তেহরান মনে করছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সেই অধিকারগুলোকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে, যা আগে ওয়াশিংটন আটকে রেখেছিল।
সুইজারল্যান্ড বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনা সভায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।
তেহরানের দাবি: ১. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ২. কাতারে জমে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের নিষেধাজ্ঞা মুক্ত করে দ্রুত তেহরানে ফেরত দিতে হবে। ৩. ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা বাধা তুলে নিতে হবে।