অভিষেক-মহুয়াদের নিশানা করে চাঞ্চল্যকর দাবি শতাব্দী রায়ের, তৃণমূলের বাকি ৮ সাংসদ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে!

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮-এ। দলের ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের বাকি ৮ সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বাড়ছে ধোঁয়াশা। আর এরই মধ্যে নিজের দলের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়।

কী বললেন শতাব্দী?
শতাব্দী রায়ের দাবি, দলের অন্দরে এমন অনেকেই আছেন যারা মুখে বড় নেতা সাজলেও আড়ালে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কুৎসা করতেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী বলেন, “যাঁরা আড়ালে নেত্রীকে বা অভিষেককে গালাগালি করত, তাঁরাই হঠাৎ এখন বড় নেতা সেজে বসে আছে। এটা তো সবারই জানা!”

মন্ত্রীত্বের লোভে দলবদল?
তৃণমূলের অবশিষ্ট ৮ সাংসদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সৌগত রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন। শতাব্দীর অভিযোগ, ক্যামেরা বা মিডিয়ার সামনে যারা এখন দলের বড় মুখ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকেই মন্ত্রীত্বের লোভে দলবদলের জন্য ছটফট করছেন। শতাব্দী রায়ের স্পষ্ট দাবি, “অনেকেই কংগ্রেসের দিকে হাত বাড়াচ্ছে, আবার কেউ কেউ মন্ত্রীত্বের আশায় বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দল বদলানোর জন্য এরা পা উঠিয়েই আছে।”

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা:
এরই মধ্যে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বড়াইকের মতো নেতাদের রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ তৃণমূলের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শতাব্দী রায়ের এই মন্তব্য কেবল দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদকেই প্রকাশ্যে আনল না, বরং তৃণমূলের অন্দরে যে চরম অস্থিরতা চলছে, তা-ও স্পষ্ট করে দিল।

এখন দেখার বিষয়, শতাব্দী রায়ের এই আক্রমণের পর তৃণমূলের অন্দরে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, নাকি বাকি ৮ সাংসদের মধ্যে থেকেও কেউ নতুন পথে পা বাড়ান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *