স্বপ্ন ছিল হেরিটেজ হোমস্টে গড়ার, অতিথিদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ধ্বংসপ্রায় তারানার সাধের বাড়ি

পাহাড়ের কোলে একটা ছোট্ট হোমস্টে চালানোর স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন পর্যটকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়, তখন তার চেয়ে কষ্টের আর কিছু থাকে না। হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা তারানা চৌহান সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও শেয়ার করে তুলে ধরেছেন পর্যটকদের এক নোংরা ও জঘন্য রূপ, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।
কী ঘটেছে হিমাচলের ‘নির্বাণ হোমস’-এ? তারানা চৌহান তাঁর পৈতৃক ভিটে, যা ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, সেটিকে অতি যত্ন ও ভালোবেসে একটি হেরিটেজ হোমস্টে-তে রূপান্তরিত করেছিলেন। এই হোমস্টে তৈরির জন্য তিনি ছেড়েছিলেন নিজের কর্পোরেট চাকরিও। কিন্তু সম্প্রতি একদল অতিথি চলে যাওয়ার পর যে দৃশ্য তিনি দেখলেন, তা কল্পনাকেও হার মানায়। তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুরো বাড়ি আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। আসবাবপত্র ভাঙা, খাবারের দাগ মেঝেতে আর আসবাবপত্র টেনে নেওয়ার ফলে পুরনো কাঠের মেঝেতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে।
মালিকের আর্তনাদ: ভিডিওতে দেখা যায়, তারানা অত্যন্ত হতাশ। তিনি বলেন, “এই বাড়িটি কেবল একটি ঘর নয়, এটি আমার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি। শত বছরের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে আমি দিনরাত পরিশ্রম করেছি। কিন্তু কিছু পর্যটক কয়েক ঘণ্টার জন্য এসে যেভাবে এর ক্ষতি করলেন, তা মেনে নেওয়া কঠিন।” তিনি আরও জানান, হিমাচলের এই ধরনের পুরোনো বাড়িগুলোর কাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল। অতিথিদের এই অবহেলা বাড়ির স্থায়ী ক্ষতি করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়: ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অধিকাংশ মানুষই পর্যটকদের এই ধরণের আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। কেউ লিখেছেন, “পাহাড় ভ্রমণে এসে পরিবেশ এবং ঐতিহ্যের প্রতি যদি এই সম্মান না থাকে, তবে তাদের ভ্রমণের কোনো অধিকার নেই।” আবার অনেকে তারানার পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অতিথিদের বিরুদ্ধে কড়া জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি পর্যটনস্থলের পবিত্রতা ও ঐতিহ্য রক্ষা করা যে প্রতিটি পর্যটকের নৈতিক দায়িত্ব— এই ঘটনা তা আবারও মনে করিয়ে দিল।