তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা জ্যোতিপ্রিয়র, নেপথ্যে কি পুরনো মামলার ভয়?

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা ও হাবড়ার প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু) দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেও তার বিপদ যেন পিছু ছাড়ছে না। দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি এবার নতুন করে আইনি জাঁতাকলে পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যে পরিবর্তনের পর এবার সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ড এবং শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের পুরনো ফাইল নতুন করে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অসুস্থতার কারণ বনাম জল্পনা: দলের পদ ছাড়ার বিষয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, “আমার সুগার ৩৫০-এর উপরে, কিডনির অবস্থাও খুব খারাপ। এই শারীরিক অবস্থায় দলের গুরুদায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।” তবে রাজনৈতিক মহলে অন্য জল্পনা শুরু হয়েছে। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
কেন বিপাকে জ্যোতিপ্রিয়? প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বরুণ বিশ্বাস হত্যা এবং সুটিয়া গণধর্ষণকাণ্ডের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অতীতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম জড়িয়েছিল। বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নতুন করে আবেদন জানানো হয়েছে। ফলে, সরকার যদি সত্যিই এই ফাইলগুলি খোলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আইনি লড়াই আরও কঠিন হতে পারে।
প্রেক্ষাপট: এক সময় হাবড়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয়কে তাঁর ‘ফেভারিট ক্যান্ডিডেট’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। দলের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে পরিচিত বালুর এই আচমকা সরে আসা এবং একই সময়ে পুরনো মামলাগুলোর ফাইল নিয়ে তৎপরতা—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার, শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা চাইলেও, আইনের লড়াই থেকে তিনি কতটা রক্ষা পান।