৫০৭৯ সালেই কি ঘটবে পৃথিবীর ধ্বংস? বাবা ভাঙ্গার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন জল্পনা

রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত বুলগেরিয়ার অন্ধ নারী বাবা ভাঙ্গা। তাঁর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভবিষ্যতের নানা অজানা ঘটনার প্রতিচ্ছবি। সম্প্রতি আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তাঁর সেই আলোচিত দাবি—৫০৭৯ সালেই ঘটবে মানবসভ্যতার সমাপ্তি! যদিও এই ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও প্রতি বছরই রহস্যপ্রেমীদের কাছে তাঁর এই মন্তব্য আলোচনার খোরাক জোগায়।

কে এই বাবা ভাঙ্গা?
বাবা ভাঙ্গার আসল নাম ভ্যাঞ্জেলিয়া পানদেভা গুশতেরোভা। সমর্থকদের বিশ্বাস, তিনি ভবিষ্যতের অনেক ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারতেন। অতীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন থেকে শুরু করে ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেন হামলা—এমন বহু বিশ্বঘটনা তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, এই দাবিগুলোর বেশিরভাগই ভিত্তিহীন এবং এর স্বপক্ষে কোনো জোরালো নথিপত্র নেই।

৫০৭৯ সালের সেই বিতর্কিত দাবি:
বাবা ভাঙ্গার কথামতো, মানবজাতি একটি দীর্ঘ সময়রেখা অতিক্রম করবে, যার মধ্যে যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগের মতো ঘটনা ঘটবে। আর সেই সময়রেখার একেবারে শেষে গিয়ে ৫০৭৯ সালে পৃথিবী ধ্বংস হবে। তবে এই দাবিকে বিজ্ঞানীরা কোনোভাবেই আমলে নিতে রাজি নন।

বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?
জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভূবিজ্ঞানী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট বছরে পৃথিবী ধ্বংস হবে—এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাঁদের মতে:

অতীতেও এমন বহুবার হয়েছে: এর আগে ২০০০ সাল, ২০১২ সালের মতো একাধিক বছরকে ঘিরে পৃথিবীর শেষের গুজব ছড়িয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ: পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কোনো অলৌকিক ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর নয়, বরং মানবসভ্যতা কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করছে, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার করছে এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগ করছে—তার ওপরই নির্ভরশীল।

কেন জনপ্রিয় হয় এমন ভবিষ্যদ্বাণী?
ইতিহাস ও রহস্য নিয়ে মানুষের সহজাত কৌতূহল থেকেই এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী বারবার আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক কৌতূহল বা লোকবিশ্বাস। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *