আইফোন কারখানায় বিপত্তি! দূষণের অভিযোগে টাটার প্ল্যান্টে তদন্ত, স্থানীয় কৃষকদের বিক্ষোভে চাঞ্চল্য

ভারতের ‘অ্যাপল হাব’ হয়ে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বড় ধাক্কা। তামিলনাড়ুর হোসুরে অবস্থিত টাটা ইলেকট্রনিক্সের আইফোন যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে মারাত্মক দূষণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ।
অভিযোগের মূলে কী? কৃষকদের অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য জলের কারণে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং জল দূষিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই দূষিত জলের সংস্পর্শে এসে তাদের চর্মরোগ হচ্ছে এবং পশুদের খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে স্থানীয় জলাশয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, কারখানার বর্জ্য জলের তীব্র দুর্গন্ধ এলাকায় বসবাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। এমনকি, জলের নমুনা পরীক্ষায় ‘ই. কোলাই’ (E. Coli) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও মিলেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়।
টাটা ইলেকট্রনিক্সের বক্তব্য অন্যদিকে, এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে টাটা ইলেকট্রনিক্স। কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের পরীক্ষায় জলের নমুনায় কোনো দূষণ ধরা পড়েনি। কোম্পানি স্বীকার করেছে যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি শোধনাগারের পাম্প সাময়িকভাবে বিকল হওয়ার কারণে কিছু পরিশোধিত জল চুইয়ে বাইরে পড়েছিল, যা দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়মিতভাবে দূষণ পরীক্ষা করা হয় এবং কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি।
ভারতের গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ও চ্যালেঞ্জ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি ভারতের বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে ওঠার যাত্রায় একটি বড় পরীক্ষার শামিল। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আইফোন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৬ শতাংশ আইফোন ভারতে তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পায়ন এবং পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিমধ্যে, স্বাস্থ্য বিভাগের চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে প্রশাসন। কারখানার কাজকর্ম এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।