দিল্লিতে ট্রাম্পের ঘুম উড়বে! ভারত-চীন-রাশিয়া-ইরানের এই বৈঠক কি ডলারের পতন ঘটাবে?

আগামী ২২-২৩ জুন নয়াদিল্লিতে বসতে চলেছে বিশ্ব রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসর। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (NSA) এই বৈঠক কেবল একটি কূটনৈতিক আলাপচারিতা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের এক বড় পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের দৃশ্যপটে এমন সব দেশের উপস্থিতি রয়েছে যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। একই টেবিলে বসতে চলেছেন ভারত, চীন, রাশিয়া এবং ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা—অর্থাৎ আমেরিকার দীর্ঘদিনের তিন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ভারতের নেতৃত্বে আলোচনার টেবিলে।

বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান সংঘাত—বিশ্ব যখন বিভিন্ন শিবিরে বিভক্ত, তখন ভারত তার নিজস্ব ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি’র মাধ্যমে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ারম্যান সের্গেই শোইগু এবং ইরানের প্রতিনিধি।

কেন ট্রাম্প এই বৈঠক নিয়ে আতঙ্কিত? কারণ ব্রিকস এখন আর কেবল একটি অর্থনৈতিক জোট নয়; এটি পশ্চিমা আধিপত্য এবং ডলার-নির্ভর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার এক বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প বারবার ব্রিকস দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রা তৈরির প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ডলারের প্রভাব খর্ব করতে চীন ও রাশিয়া জোটবদ্ধ হচ্ছে। এখন ইরানও এই মঞ্চের অংশ হওয়ায়, আমেরিকার ওপর চাপ আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, এই বছর ভারত ব্রিকস গোষ্ঠীর পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্ব করছে। তাই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘সেমি-ফাইনাল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওয়াং ই-এর এই সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফর করতে পারেন।

ভারত এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বকে এক শক্তিশালী বার্তা দিতে চাইছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক রাখা, অন্যদিকে ব্রিকস, এসসিও (SCO)-এর মতো ফোরামে চীন, রাশিয়া ও ইরানের সাথে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া—ভারত প্রমাণ করছে যে, কোনো নির্দিষ্ট শিবিরের তাঁবেদার না হয়ে নিজের জাতীয় স্বার্থে ভারত বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে পারে। ভারতের মাটিতে আমেরিকার তিন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে একত্রিত করে আলোচনার টেবিলে বসানোই ভারতের সক্ষমতার চূড়ান্ত প্রমাণ। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির এই বৈঠক থেকে কোন ধরণের কৌশলগত সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে যা ভবিষ্যৎ বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *