দিনের আলোয় ছিনতাইয়ের চেষ্টা! পাল্টা আক্রমণে ডাকাতকে নাস্তানাবুদ করে গয়না বাঁচালেন সাহসী গৃহবধূ

ভারতীয় গৃহবধূরা যে কেবল সংসার সামলানোর জন্য নয়, বরং বিপদের মুখে সিংহের মতো গর্জে উঠতে পারেন—তার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন রাজস্থানের জয়পুর গ্রামীণের চাকসু মহকুমার এক সাহসী পুত্রবধূ। শিবদাসপুরা থানা এলাকার হনুমানপুরা গ্রামে দিনের আলোতে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ওই তরুণীর অদম্য সাহসিকতা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার, যখন লালি দেবী ধোবি নামে এক বৃদ্ধা তাঁর পুত্রবধূর সঙ্গে স্থানীয় সরপঞ্চের খামারবাড়িতে কাজ সেরে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। হনুমানপুরা নাথো কি ধানির নির্জন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা এক অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী হঠাৎ তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপরাধী তার পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে সরাসরি লালি দেবীর গলায় ধরে। দিনের আলোতে শাশুড়িকে এভাবে জিম্মি হতে দেখে আতঙ্কিত না হয়ে, পুত্রবধূ বরং অসীম সাহসের পরিচয় দেন। ডাকাতটি যখন লালি দেবীর গলা থেকে ঐতিহ্যবাহী সোনার গয়না ‘জ্যোলা’ ছিনিয়ে নেয়, তখনই প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন তরুণী।
ডাকাতটি ভেবেছিল মহিলারা সহজে হার মানবে, কিন্তু তার হিসাব উল্টে যায় যখন পুত্রবধূ মরিয়া হয়ে তাকে আক্রমণ করেন। তরুণীর এই অভাবনীয় পাল্টা আক্রমণে ডাকাতটি অপ্রস্তুত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কোণঠাসা হয়ে পড়া দুষ্কৃতী বুঝতে পারে যে এই গৃহবধূর সামনে বেশিক্ষণ টিকে থাকা কঠিন। শেষ পর্যন্ত ভয়ে চুরি করা গয়নাটি মাটিতে ফেলে দিয়েই সে প্রাণ বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
দিনের আলোয় ঘটা এই দুঃসাহসিক ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) ভবানী সিং এবং শিবদাসপুরা থানার আধিকারিক রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা। পুলিশ বাহিনীসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তাঁরা এবং ভুক্তভোগী শাশুড়ি ও পুত্রবধূর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করেন।
শিবদাসপুরা থানার এসএইচও রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানিয়েছেন, অপরাধীকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পলাতক দুষ্কৃতীর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ দাবি করেছে, তারা অভিযুক্তের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে এবং খুব দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে, সোনা বা গয়নার চেয়েও ওই পুত্রবধূর সাহসিকতা এখন গোটা গ্রামের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়রা তাঁকে বীর আখ্যা দিয়ে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। দিনের আলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই ঘাটতি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ থাকলেও, ওই পুত্রবধূর বীরত্ব এখন সাহসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।