১৪ হাজার কোটি টাকার বিতর্ক: সাহারার চার কর্মকর্তাকে রেহাই দেওয়া নিয়ে এবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ সেবি

সাহারা ইন্ডিয়া কমার্শিয়াল কর্পোরেশন লিমিটেড (SICCL)-এর বিরুদ্ধে ওঠা ১৪,১০৬ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক অনিয়মের মামলায় আইনি লড়াই নতুন মোড় নিল। সিকিউরিটিজ অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল (SAT)-এর দেওয়া একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)।
মামলাটি আসলে কী? ঘটনাটি ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। সেই সময় সাহারা গোষ্ঠী ‘অপশনালি ফুলি কনভার্টিবল ডিবেঞ্চার’ (OFCD)-এর মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লক্ষ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ১৪,১০৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। সেবির দাবি, এটি কোনো প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ছিল না, বরং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তোলা পাবলিক অফারিং ছিল, যা সেবির নিয়ন্ত্রক আইনের অধীনে পড়ে।
কেন সুপ্রিম কোর্টে সেবি? গত ৯ মার্চ এসএটি (SAT) একটি রায় দিয়েছিল। সেখানে ট্রাইব্যুনাল সাহারার বিরুদ্ধে সেবির তদন্ত ও পদক্ষেপকে বহাল রাখলেও, সাহারার চারজন ম্যানেজার এবং কোম্পানি সচিবকে দায়মুক্তি দেয়। ট্রাইব্যুনালের মতে, তারা যেহেতু শুধুমাত্র ‘কর্মচারী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাই কোম্পানির অনৈতিক কাজের জন্য তাদের সরাসরি দায়ী করা যায় না। সেবি এখন সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই আবেদন জানিয়েছে। সেবির স্পষ্ট বক্তব্য—শুধুমাত্র কর্মচারী হওয়ার অজুহাতে কোম্পানির বড় ধরনের অনিয়মের দায় থেকে কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দেওয়া যায় না।
আদালতের অবস্থান: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ সেবির এই আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। জুলাই মাসে এই বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি হবে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মামলাগুলোর সাথে এটিকে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেবির আগের অবস্থান: ২০১৮ সালের অক্টোবরে সেবি এক আদেশে কোম্পানিটিকে বিনিয়োগকারীদের টাকা সুদসহ ফেরত দিতে এবং তাদের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে শেয়ার বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সেবি যে কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এই আইনি লড়াই তারই প্রতিফলন। এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্দেশ করবে যে, বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোম্পানির সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা ঠিক কতখানি।