নতুন গাড়ি কিনছেন? শোরুমের প্রতারণা থেকে বাঁচুন, গাড়িটি পুরনো কি না বুঝবেন যেভাবে

নতুন গাড়ি কেনা মানেই এক দারুণ উত্তেজনা। কিন্তু শোরুম থেকে ডেলিভারি নেওয়ার আগে আপনি কি নিশ্চিত যে গাড়িটি একেবারে নতুন? অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদনের কয়েক মাস বা এক বছর পর গাড়িটি গ্রাহকের হাতে পৌঁছায়। আর এই পুরনো স্টক কেনার ফলে ওয়ারেন্টি, ইন্স্যুরেন্স ও রিসেল ভ্যালুতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। গাড়ি কেনার আগে এই কৌশলগুলো জেনে নিন:
১. VIN নম্বর চেক করুন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
প্রতিটি গাড়ির একটি অনন্য ১৭-সংখ্যার VIN (Vehicle Identification Number) বা চেসিস নম্বর থাকে। এটি ড্যাশবোর্ডে, দরজার পাশে বা ইঞ্জিনের আশেপাশে লেখা থাকে। এই নম্বরের দশম অক্ষরটি হলো গোপন সংকেত! এটি দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন গাড়িটি কোন সালের মডেল। এছাড়া চালকের দরজার ভেতরে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং প্লেট থাকে, যেখানে মাস ও সাল উল্লেখ করা থাকে। ৬ মাসের বেশি পুরনো গাড়ি হলে অবশ্যই ডিলারের সাথে কথা বলুন।
২. টায়ারের কোড দেখুন:
টায়ারের ওপর একটি ৪-সংখ্যার কোড থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোডটি ‘২৩২২’ হয়, তবে এর মানে হলো টায়ারটি ২০২২ সালের ২৩তম সপ্তাহে তৈরি। টায়ার যদি অনেক পুরনো হয়, তবে বুঝবেন গাড়িটি শোরুম বা গুদামে দীর্ঘদিন পড়ে ছিল।
৩. ব্যাটারি ও ওডোমিটার পরীক্ষা:
গাড়ির ব্যাটারির গায়ে উৎপাদনের তারিখ দেওয়া থাকে। দীর্ঘসময় ইঞ্জিন চালু না থাকলে ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি গাড়ির ওডোমিটার বা মিটার চেক করতে ভুলবেন না। সাধারণত একটি একেবারে নতুন গাড়ির রিডিং ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের বেশি হওয়া উচিত নয়। এর চেয়ে বেশি রিডিং থাকলে সাবধান হোন।
৪. পুরনো গাড়ি কিনলে কী করবেন?
গাড়িটি যদি ৩-৪ মাসের পুরনো হয়, তবে চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু গাড়ি যদি তার চেয়ে বেশি পুরনো হয়, তবে ডিলারের কাছে অতিরিক্ত ডিসকাউন্ট দাবি করুন। প্রয়োজনে নতুন গাড়ি বদল করার জন্য চাপ দিন।
আপনার প্রিয় গাড়িটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুরক্ষিত রাখতে ডেলিভারির আগে এই ছোট বিষয়গুলো যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, সচেতনতাই আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে বাঁচাতে পারে।