LinkedIn-এ লোকে চাকরি পান, ফুটবল জগতের এই ডিফেন্ডার বিশ্বকাপে ডাক পেলেন

লিঙ্কডইন (LinkedIn) সাধারণত আমরা ব্যবহার করি চাকরি খোঁজা বা পেশাদার নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য। কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি যে কারোর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার রবার্তো পিকো লোপেজ। ব্যাঙ্কে গ্রাহক পরিষেবা দপ্তরে কাজ করা এই ফুটবলার আজ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে কেপ ভার্দে (Cape Verde) দলের অন্যতম ভরসা।

নয় মাস অবহেলিত সেই মেসেজ ঘটনাটি ২০১৮ সালের। তখন লোপেজ আয়ারল্যান্ডের একটি ব্যাঙ্কে গ্রাহক পরিষেবা দপ্তরে কর্মরত। ঠিক সেই সময় কেপ ভার্দের জাতীয় দলের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে লিঙ্কডইনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু বার্তাটি ছিল পর্তুগিজ ভাষায়। সন্দেহ হওয়ায় সেই মেসেজটিকে পাত্তা দেননি লোপেজ। ইনবক্সে দীর্ঘ নয় মাস পড়েছিল সেই প্রস্তাব। এরপর কেপ ভার্দের পক্ষ থেকে যখন পুনরায় ইংরেজিতে যোগাযোগ করা হয়, তখন উপলব্ধি করেন এটি কোনো প্রতারণা নয়, বরং তাঁর বাবার দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার এক বিরল সুযোগ।

পেশাদার ফুটবলার নন, তাও স্বপ্নপূরণ আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া লোপেজের মা আইরিশ এবং বাবা কেপ ভার্দের বাসিন্দা। দীর্ঘ ১৫ বছর আগে তিনি আয়ারল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছিলেন। তবে পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় তাঁর মূল যোগসূত্র ছিল না। আয়ারল্যান্ডের ব্যাঙ্কে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটানোর পর, বাকি সময়টুকু তিনি ফুটবলের পেছনেই ব্যয় করতেন। অনেকেই তখন তাঁর এই স্বপ্নকে অর্থহীন মনে করেছিলেন। ২০১৯ সালে প্রথম কেপ ভার্দের জাতীয় স্কোয়াডে ডাক পান তিনি। আর আজ, বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর।

ব্লু শার্ক-এর নতুন অধ্যায় ‘ব্লু শার্ক’ নামে পরিচিত কেপ ভার্দের দল এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবার নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অন্যতম কাণ্ডারি লোপেজ। যে দ্বীপের মাটিতে তিনি আগে কখনও পা-ই রাখেননি, সেই দ্বীপের মানুষের আবেগ আর সম্মান এখন তাঁর কাঁধে।

সম্পাদকের টিপস: লোপেজের এই সফর আমাদের শেখায় যে, কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে সুযোগ যেকোনো সময়, যেকোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে আসতে পারে—এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ‘অদেখা’ মেসেজ থেকেও।