“ফর্মের আকাল, দীর্ঘ লাইন!”-প্রথম দিনেই রাজ্যজুড়ে সাড়া ফেলল জনকল্যাণ শিবির

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা এবার এক ছাতার তলায়। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সোমবার থেকে কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোতেই শুরু হয়েছে বিশেষ ‘জন কল্যাণ শিবির’। তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচি বুধবার পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকছে এই ক্যাম্পগুলি।
অভূতপূর্ব ভিড়, উপচে পড়া আবেদন শিবির শুরুর প্রথম দিন থেকেই প্রকল্পগুলির ফর্ম সংগ্রহের জন্য মানুষের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র কাউন্টারগুলিতে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। আলিপুরের বেলভেডিয়ার রোডের বরো ৯ কার্যালয় থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দুপুরের আগেই তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন। মানুষ শুধু ফর্ম সংগ্রহই করছেন না, প্রকল্পের খুঁটিনাটি জানতে আধিকারিকদের সাথে দীর্ঘ আলোচনাও সারছেন।
প্রথম দিনের সাফল্য ও বিভ্রাট এত বড় উদ্যোগের প্রথম দিনেই কিছু জায়গায় অব্যবস্থার ছবিও উঠে এসেছে।
-
ফর্মের ঘাটতি: বিবেকানন্দ পার্কের বরো ৮-এর শিবিরে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর ফর্ম শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আবেদনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আধিকারিকরা ঘোষণা করেন, নতুন ফর্ম এলে তা ওয়ার্ডে জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
-
প্রযুক্তিগত সমস্যা: বার্ধক্য ভাতার ফর্ম সময়মতো না পৌঁছানোয় বহু মানুষকে ফিরে যেতে হয়, যা নিয়ে শিবিরে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
এক নজরে জনকল্যাণ শিবির:
-
পরিধি: কলকাতার ১৬টি বরোতেই এই শিবির চলছে।
-
সহায়তা: রাজ্য সরকারের ১৪টি দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন, যাঁরা আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সরবরাহে সরাসরি সাহায্য করছেন।
-
বিশেষত্ব: এটি অনেকটা ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে সাজানো হলেও, এবার এর মূল আকর্ষণ—রাজ্য ও কেন্দ্রের যাবতীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখন একই ক্যাম্প থেকে পাওয়া যাচ্ছে।
পুরসভার আধিকারিকদের আশ্বাস, প্রথম দিনের অভিজ্ঞতার পর পরবর্তী দিনগুলিতে ফর্মের জোগান ও ভিড় সামলাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরার আবেদন জানানো হয়েছে।