ইরান-আমেরিকা ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি! ৩০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের খবর কি সত্যি? মুখ খুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার নতুন শান্তিচুক্তির খসড়ায় দুই দেশের পক্ষ থেকে সম্মতির ইঙ্গিত মেলার পর থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী পূর্ণমাত্রায় খুলে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর্থিক সাহায্যের জল্পনা ও ট্রাম্পের সাফ জবাব:
আন্তর্জাতিক মহলে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যে, চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিতে চলেছে আমেরিকা। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়েই এই চুক্তি হয়েছে। আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি সম্পূর্ণ বিরোধীদের ছড়ানো প্রোপাগান্ডা।
হরমুজ প্রণালী ও শান্তি প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরানোর কাজ চলছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যেই আংশিকভাবে শুরু হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যেই এটি পূর্ণমাত্রায় খুলে দেওয়া হবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটিই এই চুক্তির মূল ভিত্তি।
ইজরায়েলের অবস্থান ও মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে সংশয়:
এই চুক্তি নিয়ে ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার মতপার্থক্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন যে তিনি এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নন, তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। ভ্যান্সের মতে, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েলি নেতৃত্ব এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাংশ ইরানের প্রতিশ্রুতি পালনের সামর্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বজায় রাখবে কি না, তা নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউসের অন্দরেও সংশয় রয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির এই নতুন সমীকরণ ও মার্কিন-ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।