‘চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই!’ ট্রান্সজেন্ডার সংশোধনী আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা কেন্দ্রের?

ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (সংশোধনী) আইন, ২০২৬-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের করা একাধিক রিট পিটিশনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজস্থান, কর্ণাটক, কেরালা এবং দিল্লি হাইকোর্টে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলাগুলি চলছিল, তার সবকটির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
কেন এই পদক্ষেপ?
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল যে, দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টে ছড়িয়ে থাকা এই মামলাগুলোকে একত্রিত করে দিল্লি হাইকোর্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হোক। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, যেহেতু কেন্দ্রীয় আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, তাই ভিন্ন ভিন্ন হাইকোর্টে এর শুনানি হওয়া জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কী বললেন প্রধান বিচারপতি?
শুনানি চলাকালীন আদালতের সামনে আবেদনকারীদের অন্যতম, ডঃ চন্দ্রেশ জৈন দাবি করেন যে, এই সংশোধনীর কোনো চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই এবং এটি অসাংবিধানিক। তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালের এই সংশোধনী আইন ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক ‘নালসা’ (NALSA) রায়ের পরিপন্থী, যেখানে লিঙ্গ পরিচয়কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ডঃ জৈনের বিস্তারিত যুক্তি শুনে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “সব মামলা একসঙ্গে শোনাটাই শ্রেয়। আমরা হয় কোনো একটি হাইকোর্টে সব স্থানান্তর করব, নতুবা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট নিজেই বিচার করবে।”
আইনি লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ:
সংশ্লিষ্ট মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রস্তাব দেন যে, বিষয়টি একটি তিন বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হোক। কারণ, হাইকোর্টের পক্ষে নালসা (NALSA) সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আলাদা কোনো মতামত তৈরি করা কঠিন।
আবেদনকারীদের আইনজীবীর মতে, নতুন সংশোধনীটি কেবল মৌলিক অধিকারেরই বিরোধী নয়, এটি বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের নিরিখেও দুর্বল। এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি। এই আইনি লড়াই ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে আগামী দিনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।