আইনি জটে বিহারের মন্ত্রী! দীপক প্রকাশের পুনঃনিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ

বিহারের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী দীপক প্রকাশের পুনঃনিয়োগকে কেন্দ্র করে আইনি টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একজন অ-বিধায়ককে বারবার মন্ত্রী পদে বহাল রাখা সংবিধানের বিধানের পরিপন্থী কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিহার সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং দীপক প্রকাশের কাছে জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিতর্কের মূলে কী?
আবেদনকারী রাকেশ কুমার সিংয়ের দায়ের করা পিটিশনে দাবি করা হয়েছে যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৬৪ (৪) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হয়েও মন্ত্রী হতে পারেন, তবে সেই মেয়াদ সর্বাধিক ছয় মাস। এই সময়ের মধ্যে তাকে অবশ্যই রাজ্য বিধানসভার সদস্য হতে হবে। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই সাংবিধানিক ছাড়টি কেবল ‘এককালীন’ সুযোগ। কিন্তু বিহার সরকার সরকার পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে একই ব্যক্তিকে বারবার মন্ত্রী বানিয়ে এই নিয়মকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে, যা একপ্রকার ‘ব্যাকডোর এন্ট্রি’।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

প্রথম নিয়োগ: ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হন দীপক প্রকাশ।

সরকারের পতন: ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল নীতীশ কুমার পদত্যাগ করলে মন্ত্রীসভার পতন ঘটে।

পুনঃনিয়োগ: ২২ দিন পর, ৭ মে ২০২৬-এ সম্রাট চৌধুরীর নতুন সরকারে পুনরায় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দীপক প্রকাশ।

আবেদনকারীর যুক্তি, প্রথম নিয়োগের তারিখ থেকে হিসাব করলে তার ৬ মাসের মেয়াদ ২০ মে, ২০২৬-এই শেষ হয়ে গিয়েছে। অথচ নতুন সরকারে তিনি আবারও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি ভি. মোহন-এর অবকাশকালীন বেঞ্চ এই মামলার গুরুত্ব স্বীকার করে নোটিশ জারি করেছে। শুনানির সময় বেঞ্চ সরাসরি জানতে চায়, দীপক প্রকাশ কি এখনও মন্ত্রী পদে আছেন? আবেদনকারীর আইনজীবী হ্যাঁ-সূচক উত্তর দিলে আদালত নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেয় এবং আগামী ১৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

এই মামলাটি ভারতীয় সংবিধানের সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি—‘নির্বাচনী জবাবদিহিতা’র দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শুধু বিহারেই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও অ-বিধায়ক মন্ত্রী নিয়োগের প্রবণতা নিয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।