রাজ্যে আসছে ৬,০০০ টাকার সরকারি প্রকল্প! কারা পাবেন এই সুবিধা? রইল আবেদন পদ্ধতি

রাজ্যে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্পগুলির পাশাপাশি, এবার কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্ৰিয় প্রকল্প ‘পিএম কিসান সম্মান নিধি যোজনা’ (PM Kisan Samman Nidhi Yojana) নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রান্তিক চাষিদের আর্থিক স্বনির্ভরতা প্রদানের লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধা বাংলার কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

কী এই প্রকল্প ও কত টাকা মিলবে?
২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর কৃষকদের স্বার্থে কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্পটি চালু করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তারা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। এই পুরো টাকাটি বছরে তিনটি সমান কিস্তিতে অর্থাৎ ২,০০০ টাকা করে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। কিস্তিগুলি মূলত এপ্রিল থেকে জুলাই, অগস্ট থেকে নভেম্বর এবং ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই তিন দফায় দেওয়া হয়।

সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী:
কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। জেনে নিন কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য:

জমির মালিকানা: আবেদনকারীর সরকারি ভূমি রাজস্ব দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী চাষযোগ্য জমি থাকা বাধ্যতামূলক।

প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা: প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিমালিকরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না।

আয়ের সীমা: উচ্চ আয়ের আওতায় থাকা কৃষকরা এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

সরকারি কর্মী: কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা সুবিধা পেতে পারেন, তবে তাঁদের মাসিক বেতন বা পেনশন ১০,০০০ টাকার কম হতে হবে।

পেশাদার করদাতা: কোনো ব্যক্তি পেশাদার করদাতা হলে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

অন্যান্য নথিপত্র: আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি তাঁর সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার কার্ড থাকা আবশ্যক। (প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, [আধার কার্ড নম্বর গোপন রাখা হয়েছে])।

ই-কেওয়াইসি (e-KYC): আবেদনের সময় বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

দলিল জমা: জমির মালিকানার যাবতীয় নথি আবেদনের সময় জমা দিতে হবে।

আপনি যদি একজন কৃষক হন এবং এই সমস্ত শর্ত পূরণ করেন, তবে আপনি সরকারি ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। কেন্দ্রের এই উদ্যোগ বাংলার কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।