বন্ধের মুখে টাটার আইফোন প্ল্যান্ট? বর্জ্য দূষণ নিয়ে তামিলনাড়ু সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ুর হোসুরে অবস্থিত টাটা ইলেকট্রনিক্সের আইফোন কম্পোনেন্টস তৈরির কারখানাটি বর্তমানে এক গুরুতর সংকটের মুখে। কারখানার বর্জ্যজল আশেপাশের কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ জলকে দূষিত করছে—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে তামিলনাড়ু পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (TNPCB)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানাটি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টিএনপিসিবি-র শো-কজ ও হুঁশিয়ারি
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত একাধিকবার কারখানাটি পরিদর্শন করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। বোর্ডের দাবি, কারখানার বৃষ্টির জল সংরক্ষণের পুকুরে বর্জ্যজল ফেলা হচ্ছে, যা উপচে পড়ে সংলগ্ন কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টাটা কর্তৃপক্ষকে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা বা কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টাটা কর্তৃপক্ষের দাবি
যদিও সরকারি সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে টাটা কর্তৃপক্ষ। সংস্থার দাবি, একটি স্বাধীন ল্যাবরেটরির রিপোর্ট অনুযায়ী, কারখানাটি পরিবেশগত সমস্ত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনে তারা বাড়তি সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে এবং বর্তমানে উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

স্টারলাইট কপার কাণ্ডের ছায়া
এই ঘটনা স্বভাবতই থুথুকুডির সেই পুরনো স্মৃতি উসকে দিয়েছে। কয়েক বছর আগে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে স্টারলাইট কপার প্ল্যান্ট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ভারতের কপার উৎপাদন ৪০ শতাংশ হ্রাস পায়। সেই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার কর্মী বেকার হন এবং দেশ কপার আমদানিতে বাধ্য হয়। অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের নিরিখে সেই ঘটনা ছিল বড় ধরনের ধাক্কা। অনেকের আশঙ্কা, টাটার প্ল্যান্টের ক্ষেত্রেও যদি একই পরিণতি হয়, তবে ভারতে ‘আইফোন হাব’ তৈরির স্বপ্ন এবং হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান প্রশ্নের মুখে পড়বে।

ঝুঁকিতে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস?
টাটার এই প্ল্যান্ট ভারতের আইফোন ইকোসিস্টেমের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যেখানে ব্যাক প্যানেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পার্টস তৈরি হয়। রাজ্য সরকারের এই কঠোর অবস্থানে স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে উদ্বেগ দানা বেঁধেছে। শিল্পমহলের একাংশের মতে, পরিবেশ দূষণ নিয়ে আপস করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই বড় ধরনের শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে আরও বেশি সমন্বয় ও সমাধানমুখী আলোচনার প্রয়োজন।

ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার এই যাত্রায় পরিবেশ রক্ষা ও শিল্প প্রসারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ।