এক ছাদের নিচে থেকেও বিচ্ছিন্ন! বিশ্বের দ্বিতীয় ‘একাকী’ দেশ ভারত, বলছে সাম্প্রতিক সমীক্ষা

সামাজিক পরিকাঠামো এবং যৌথ পরিবার ভারতের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু সেই চিরাচরিত পারিবারিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও ভারতের মানুষ আজ তীব্র একাকীত্ব ও মানসিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগছেন। ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্ম ‘জেবি ডট কম’-এর সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় ‘একাকী’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে রীতিমতো উদ্বেগের বিষয়।

সমীক্ষার মাপকাঠি
৩৬টি দেশের মানুষের মানসিক সুস্থতা নিয়ে করা এই গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে একটি বিশেষ ‘লোনলিনেস স্কোর’। এই স্কোরে একাকীত্ব, অবসাদের হার, সমাজে আনন্দ-বিষাদের মাত্রা এবং পারিবারিক কাঠামোর মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষায় তুরস্ককে (১০০ স্কোর) তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে এবং ভারত (৮৯ স্কোর) দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তালিকার প্রথম দশে ব্রাজিল, সৌদি আরব ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশও রয়েছে।

ভারতের চিত্রটা ঠিক কতটা ভয়াবহ?
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী:

৫৮ শতাংশ ভারতীয় নিয়মিত একাকীত্বে ভোগেন।

৩৪ শতাংশ মানুষ সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ভারতের ৩৭ শতাংশ মানুষ প্রতিনিয়ত তীব্র অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভোগেন, যা এই তালিকার শীর্ষে থাকা পাঁচটি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শারীরিক নয়, মানসিক দূরত্বই কারণ
সমীক্ষায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো—ভারতে একাকীত্ব শারীরিক দূরত্বের কারণে নয়, বরং মানসিক দূরত্বের কারণে ঘটছে। ভারতের মাত্র ৩.৭ শতাংশ মানুষ একক পরিবারে বসবাস করেন। বেশিরভাগ বাড়িতেই সদস্য সংখ্যা চার বা তার বেশি। অর্থাৎ, পরিবারের সবার সঙ্গে এক ছাদের নিচে থেকেও মানসিকভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করছেন মানুষ। মনোবিদদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমের অত্যধিক ব্যবহার এবং কর্মজীবনের চাপের কারণে পারিবারিক কথোপকথন কমে যাওয়াই এই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের মূল কারণ।

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ কারা?
তালিকায় সবচেয়ে কম একাকীত্বের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে উজবেকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডসের নাম। সেখানে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার হার অত্যন্ত কম এবং মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি সামাজিক ও আনন্দিত।

ভারতের মতো দেশে, যেখানে পারিবারিক বন্ধনকেই সাফল্যের চাবিকাঠি মনে করা হয়, সেখানে এই পরিসংখ্যান বর্তমান সময়ের এক ভয়ঙ্কর নিঃসঙ্গতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্যক্তিগত এবং সামাজিক স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।