কোর্টরুমে অঝোরে কান্না! ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী, ভাইরাল ভিডিও

বিচ্ছেদের তিক্ততা মুছে ভালোবাসার জয়! দিল্লির এক ফ্যামিলি কোর্টে ডিভোর্সের চূড়ান্ত শুনানির দিনে যা ঘটল, তা দেখে অবাক উপস্থিত আইনজীবী থেকে বিচারক— সকলেই। পাঁচ বছর আলাদা থাকার পর যে দম্পতি আজীবনের জন্য আলাদা হতে এসেছিলেন, তারাই শেষ মুহূর্তে আইনি নথি ছিঁড়ে নতুন করে বাঁচার শপথ নিলেন।

২০২০ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল সৌরভ ও শিখার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত ডিভোর্সের মামলায় গড়ায়। মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিখার বাবার আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। এমনকী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধ বাবা সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে সংকটাপন্ন হয়ে পড়েন।

ঠিক সেই দুর্দিনেই দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়ান জামাই সৌরভ। শ্বশুরকে গুরগাঁওয়ের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা থেকে শুরু করে সমস্ত চিকিৎসার খরচ বহন করেন তিনি। সৌরভের এই মানবিক রূপ শিখার মনে আবারও ভালোবাসার বীজ বুনে দেয়।

কোর্টরুমের সেই আবেগঘন মুহূর্ত
ঘটনার পরদিন ছিল ডিভোর্সের মামলার শুনানি। বিচারক যখন সৌরভকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনি কি সত্যিই ডিভোর্স চান?”, ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। সৌরভের উত্তরের অপেক্ষা না করেই শিখা চেয়ার থেকে উঠে দৌড়ে যান। সবার সামনেই ডিভোর্সের সমস্ত আইনি কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে জড়িয়ে ধরেন স্বামীকে। পাল্টা আলিঙ্গনে সৌরভও জানিয়ে দেন, তিনিও এই বিচ্ছেদ চান না।

কোর্টরুমের এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই। একজন আইনজীবী মন্তব্য করেন, “ফ্যামিলি কোর্ট মানেই সাধারণত ঝগড়া, বিবাদ আর বিচ্ছেদের দলিল। কিন্তু আজকের এই ঘটনা দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

বলা বাহুল্য, দীর্ঘ পাঁচ বছরের তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে এই দম্পতি ফের নতুন করে সংসার শুরু করার বার্তা দিলেন। এই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল।