ত্রিপুরার দল NCPI-তে জুড়বেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা, জেনেনিন বিস্তারিত

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এখন চূড়ান্ত রূপ নিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে এবার ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগদানের পথে হাঁটছেন দলের বিদ্রোহী সাংসদরা। লোকসভায় নিজেদের পৃথক অস্তিত্ব জানান দিতে এবং এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থন জোগাতে এই রণকৌশল নিয়েছেন তাঁরা।

সূত্র মারফত জানা গেছে, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এখন একজোট হয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-defection Law) এড়িয়ে নিজেরা আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে সংসদে টিকে থাকতে এবং সরকারি মর্যাদা পেতে এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন তাঁরা। রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃত একটি আঞ্চলিক দলের ছত্রছায়ায় গেলে আইনি বাধা অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন বিদ্রোহীরা।

অভিষেকের আইনি চ্যালেঞ্জ
সাংসদদের এই দলত্যাগের চেষ্টাকে ঘিরে তোলপাড় দিল্লি ও কলকাতার রাজনীতি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি ‘দলত্যাগ বিরোধী আইনের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন। এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি নিজের ক্ষোভ ও আইনি আপত্তি জানিয়েছেন।

তাৎপর্যপূর্ণ সমীকরণ
ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল হলেও এনসিপিআই-এর সংগঠন অসম ও পশ্চিমবঙ্গেও কিছুটা বিস্তৃত। ২০২৩-এর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনেও তারা প্রার্থী দিয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ২০ জন সাংসদ যদি এনসিপিআই-এর ব্যাজ পরেন, তবে লোকসভার সংসদীয় সমীকরণ আমূল বদলে যাবে। এনডিএ সরকার এই সংখ্যাধিক্যের ফলে নতুন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসতে পারে।

তৃণমূলের এই বিশাল ভাঙন কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বর হওয়ার স্বপ্নকে ভেঙে দিল? সোমবার স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ।