সই জাল কাণ্ডে এবার মদন মিত্রের বাড়ি সিআইডি! অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব

কলকাতা: বিধানসভার সই জাল কাণ্ডের তদন্তে এবার সিআইডি (CID)-র নজরে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। শুক্রবার সকালে বিধায়কের ভবানীপুরের বাসভবনে হানা দেয় সিআইডি-র একটি দল। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁকে একটি নোটিসও দেওয়া হয়েছে।
কী বললেন মদন মিত্র?
সিআইডি-র এই অভিযান নিয়ে বিধায়ক মদন মিত্র জানান, “সকালবেলায় সিআইডি আমার বাড়িতে এসেছিল। তারা আমাকে নির্দিষ্ট কিছু সই দেখিয়ে জানতে চায় সেগুলো আমার কি না। তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে এবং আমাকে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে।” গত ২৮ মে থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তে এর আগে কুণাল ঘোষ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছে সিআইডি।
তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা
এই ঘটনার মধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে অন্য একটি জল্পনা দানা বেঁধেছে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিকেলের বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়মিত দেখা গেলেও, গত দুই দিনে তাঁর অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক ও সিআইডি নোটিস সংক্রান্ত জল্পনার দিনেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির আশেপাশে দেখা যায়নি, যা তাঁদের মধ্যে মতভেদের ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ডেরেক ওব্রায়েন, কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্রকে দেখা গেলেও কল্যাণের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঠিক কী এই ‘সই জাল’ কাণ্ড?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গত ৬ মে কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে এক বৈঠকের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা ও সমর্থনের জন্য একটি রেজিস্টারে সই করানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় ওই সইগুলোকে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ১৯ মে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাবের সময় সেই সইগুলো জালিয়াতি করে জমা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বিধানসভার সচিব হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিআইডি।
উল্লেখ্য, সই জাল কাণ্ডে গত বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় তাঁকে ফের ১৪ জুন তলব করা হয়েছে। একদিকে অভিষেক, অন্যদিকে মদন মিত্র—তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতাকে সিআইডি তলব করায় রাজ্য রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ তৈরির জল্পনা তুঙ্গে।
তৃণমূলের একের পর এক নেতাকে সিআইডি তলব এবং দলের ভেতরে সিনিয়র নেতাদের দূরত্ব—এই পুরো পরিস্থিতিটি আপনি কীভাবে দেখছেন? আপনার মতামত জানান।