মঠের সম্পত্তি নিয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই! কোটি টাকার লোভে খুন মহন্ত দেবানন্দ, গ্রেপ্তার ২

রাজস্থানের কোটা জেলায় ১,২০০ বছরের পুরনো চন্দ্রসাল মঠের মহন্ত দেবানন্দ মহারাজ খুনের ঘটনার রহস্য মাত্র ছয় দিনেই উদ্ঘাটন করল পুলিশ। মঠের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি এবং ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ৫ই জুন রাতে চন্দ্রসাল মঠের ভেতর ঘুমন্ত মহন্ত দেবানন্দ মহারাজের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। নন্দনবন মহারাজের ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দিয়ে আক্রমণকারীরা মহন্ত দেবানন্দকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মহন্তের মৃত্যু হয়। ৩৫ বছর বয়সী এই ধর্মগুরু মায়াপুরি আখড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় এলাকায় অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসা তথ্য:
কোটা পুলিশ এই খুনের ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করে। তদন্তে জানা যায়:
সম্পত্তির বিরোধ: চন্দ্রসাল মঠের প্রায় ৭৫০ বিঘা জমি ও কোটি টাকার সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ ছিল বিবাদের মূল কারণ।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে: অভিযোগ রয়েছে, ট্রাস্টের প্রাক্তন কার্যনির্বাহী কমিটির আইনজীবী সন্তোষ কুমার রায় মঠের সম্পদের ওপর নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, মহন্ত দেবানন্দ নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির জন্য আইনি স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
সুপারি কিলার: পুলিশি সূত্রে খবর, মহন্তকে খতম করার জন্য আদিত্য বর্মা নামের এক দুষ্কৃতীকে ১ লক্ষ টাকার চুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
গ্রেপ্তার ও তল্লাশি:
কারিগরি প্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সন্তোষ রায় এবং পুষ্পেন্দ্র সিং ওরফে প্রিন্স-কে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত আদিত্য বর্মা, অঙ্কিত বৈরওয়া সহ বাকিরা এখনও পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই বাকি অভিযুক্তদেরও জালে আনা সম্ভব হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সাধু সম্প্রদায় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সুবিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।