হারের দায় কার? অভিষেকের ‘অভব্য আচরণ’ নিয়ে তোপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, জনমত সমীক্ষায় বড় ইঙ্গিত!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে একদিকে যেমন নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি বিদ্রোহের পথে হাঁটলেন প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ:
দলের হারের জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অভব্য আচরণ’কেই দায়ী করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে পথে নামা কিংবা সিআইডি অভিযানের সময় কালীঘাটে ছুটে যাওয়া কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যপদ্ধতি দলের ভিতকে ধ্বংস করছে। এখানেই থেমে না থেকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত মামলা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, এই ইস্যুতে কার্যত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
জনমত সমীক্ষায় অবাক করা তথ্য:
এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’ অনুষ্ঠানের সোশ্যাল মিডিয়া পোল সেগমেন্টে একটি অনলাইন জনমত সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে প্রশ্ন ছিল— “দলের হারের জন্য কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী—কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবি কি সঠিক?”
সমীক্ষার ফলাফল রীতিমতো চমকপ্রদ:
হ্যাঁ (সমর্থন): ৯১%
না (বিরোধিতা): ৭%
জানি না / বলতে পারব না: ২%
অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়ায় অংশগ্রহণকারী ভোটদাতাদের সিংহভাগই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইউটিউব, ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং থ্রেডের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে দর্শকদের এই বিপুল প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে প্রবীণদের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছিল। তৃণমূলের চিফ হুইপের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া থেকে শুরু করে একাধিকবার ভিন্নমত পোষণ—কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই দলের অন্দরে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’-এর ভূমিকা পালন করেছেন। এবারের এই নতুন বিদ্রোহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।