মমতার ভরাডুবির দায় আইপ্যাকের! দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক বীরভূমের ‘কেষ্ট’

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। হারের কারণ নিয়ে দলের অন্দরে যখন ক্ষোভের বারুদ জমেছে, তখন দীর্ঘ সময় মৌনব্রত পালন করেছিলেন বীরভূমের একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙে ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি অভিষেক দত্ত রায়ের সামনে কার্যত বোমা ফাটালেন ‘কেষ্ট’ মণ্ডল।

আইপ্যাক ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ: বিধানসভায় তৃণমূলের এই শোচনীয় পরাজয়ের জন্য সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-কে দায়ী করেছেন অনুব্রত। তাঁর কথায়, আইপ্যাকের ভুল কৌশলের কারণেই আজ দলের এই ভরাডুবি। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষে কার পাল্লায় পড়ল জানি না। আমার হাতে শেষদিকে ঘি খায়নি।” দলের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর আক্ষেপ, “কেউ যদি জেগে ঘুমায়, তবে কী করা যাবে?”

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অনুব্রত: জেল থেকে ফেরার পর তিনি যে নিষ্ক্রিয়, সে কথা এদিন পুনরায় স্পষ্ট করেছেন অনুব্রত। তিনি বলেন, “জেল থেকে ফেরার পর আমি আর রাজনীতি করিনি, ভোটও পরিচালনা করিনি।” তবে ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত সাফ জানিয়েছেন, দল ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই, তবে আত্মসম্মান তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পায়। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “সম্মান পেলে দল করব, না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। দলের ভরাডুবির পর থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে বিধায়ক ও সাংসদরা তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে অনুব্রতর মতো বর্ষীয়ান নেতার এই মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।