মমতা কি ফিরছেন পুরনো ঘরে? কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে রাজনীতিতে প্রবল জল্পনা!

জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে এই মুহূর্তে সবথেকে চর্চিত বিষয়— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরওয়াপসি’ কি আসন্ন? ১৯৯৭ সালে যে কংগ্রেস ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজস্ব দল গঠন করেছিলেন, আজ কি সেই ‘হাত’ শিবিরের আশ্রয়েই নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব খুঁজতে চাইছেন তিনি? তৃণমূলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নই এখন রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
দিল্লিতে মমতার দীর্ঘ বৈঠক, তুঙ্গে জল্পনা রাজ্যে যখন একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন, দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন হেভিওয়েটরা, ঠিক সেই সময়েই মমতার দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দিল্লি পৌঁছেই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ একান্ত বৈঠক এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ— এই দুই ঘটনা রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে খবর।
কেন এই ‘ঘরওয়াপসি’র কথা উঠছে? শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সাংসদ সঞ্জয় রাউতের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে রাউত বলেন, “কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলোর উচিত আবার মূল দলে ফিরে আসা।” বিজেপি যেভাবে আঞ্চলিক দলগুলোকে রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে শক্তিশালী বিরোধী জোটই শেষ ভরসা— এমনটাই দাবি করেছেন তিনি।
তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল গত ৪ মে-র নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০-এর বেশি বিধায়কের বিদ্রোহ কিংবা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন সাংসদদের একটি বড় অংশের অবস্থান— সব মিলিয়ে ১৯৯৮ সালে গড়ে তোলা দলের ওপর থেকে নেত্রীর নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ আলগা হয়ে আসছে। দলের অন্দরের এই বিদ্রোহ আর বিজেপির প্রবল চাপের মুখে টিকে থাকার জন্য কংগ্রেসের সাথে মিশে যাওয়াই কি মমতার জন্য ‘সেরা বিকল্প’?
মমতার কি আর বিকল্প খোলা আছে? দীর্ঘদিন লড়াকু নেত্রী হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এমন কঠিন সময় আগে আসেনি। একদিকে দুর্নীতি নিয়ে সিআইডির তদন্ত, অন্যদিকে দলের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই— সব মিলিয়ে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন সংকটের মুখে। যদিও এ নিয়ে তৃণমূল বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে কংগ্রেসের হাত ধরা ছাড়া এই মুহূর্তে মমতার সামনে বিকল্প পথ খুব একটা নেই।
এখন দেখার বিষয়, আজীবন লড়াকু নেত্রী কি শেষ পর্যন্ত আপস করবেন, নাকি নতুন কোনো রণকৌশল সাজিয়ে ফের চমক দেবেন?