মমতার বাড়ির অফিসে সিআইডি হানা! হাইকোর্টে মামলা তৃণমূলের, উঠল অতিসক্রিয়তার অভিযোগ

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন সংলগ্ন পার্টি অফিসে সিআইডি-র তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘অতিসক্রিয়তা’ আখ্যা দিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

হাইকোর্টে মামলা তৃণমূলের
তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত কলকাতা হাইকোর্টে সিআইডি-র অভিযানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার আবেদন জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই সিআইডি আধিকারিকরা বলপূর্বক ওই পার্টি অফিসে ঢুকে নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। এই ‘অনৈতিক’ কাজের বিরুদ্ধে সিআইডি-কে কঠোর নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতের কাছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ এই মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিলেও, জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, নিয়মিত তালিকা অনুযায়ীই এই মামলার শুনানি হবে।

কী ঘটেছিল মঙ্গলবার?
মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের ‘জাল সই’ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে সিআইডি-র একটি দল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছে ওই পার্টি অফিসে হাজির হয়। সিআইডি আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করেন এবং প্রথমে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। পরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সিআইডি দল পার্টি অফিসের ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালায়।

তৃণমূলের দাবি
শাসক দলের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা অতিসক্রিয় হয়ে কাজ করছে। কোনো আইনি ওয়ারেন্ট ছাড়া যেভাবে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে, তা সংবিধানবিরোধী বলে মনে করছে তৃণমূল।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
একই রাজ্যের পুলিশের অধীনে থাকা তদন্তকারী সংস্থা যখন খোদ শাসক দলের সুপ্রিমোর কার্যালয়ে হানা দেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই অভিযান তদন্তের স্বার্থে, নাকি রাজনৈতিক কোনো সমীকরণ কাজ করছে— তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। আদালত এখন এই মামলার শুনানিতে কী পর্যবেক্ষণ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।