তীব্র দাবদাহে জ্বলছে দেশ! ভারতে ‘কুলিং পভার্টি’র শিকার ৯৫ শতাংশ মানুষ, বলছে নতুন গবেষণা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ তার ভয়াবহ রূপ দেখাচ্ছে। কিন্তু এই তীব্র গরমেও দেশের সিংহভাগ মানুষ পর্যাপ্ত সুরক্ষা বা শীতলীকরণের (Cooling) কোনো ব্যবস্থা পান না। বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য—ভারতে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ তথাকথিত ‘কুলিং পভার্টি’ বা শীতলীকরণের অভাবজনিত দারিদ্র্যের শিকার।
কী এই ‘কুলিং পভার্টি’? ‘কুলিং পভার্টি’ বলতে বোঝায় সেই পরিস্থিতি, যেখানে মানুষ তীব্র গরম থেকে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় এয়ার কন্ডিশনার, কুলার বা ফ্যানের মতো ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থার অভাবে সাধারণ মানুষের শরীর ও স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
গবেষণার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য: বিশ্বের ২৮টি দেশের ১০ লক্ষেরও বেশি পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন:
-
বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের কাছে তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
-
প্রায় ১০০ কোটি মানুষ সুরক্ষা ছাড়াই জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে গরম সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন।
-
এই সঙ্কটের মূল কেন্দ্রে রয়েছে ভারত, যেখানে জনসংখ্যার বিশাল অংশ তীব্র গরমেও সুরক্ষা পায় না।
ভবিষ্যৎ কতটা ভয়াবহ? জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছরই গরমের মাত্রা রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহের ফলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র পরিকাঠামোর অভাবে অগণিত মানুষ প্রতিদিন স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ভারতে এই ‘কুলিং পভার্টি’ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বৈষম্যের পরিচয় দিচ্ছে না, বরং এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সুলভ শীতলীকরণ ব্যবস্থার অভাব আগামী দিনে এক মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের।