রেজোলিউশন বুকের খোঁজে সিআইডি! কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে একযোগে তল্লাশি

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিতর্কিত ‘রেজোলিউশন বুক’-এর সন্ধানে তৎপর রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। মঙ্গলবার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট (মমতা ব্যানার্জির বাসভবন সংলগ্ন এলাকা) এবং ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে একযোগে তল্লাশি চালালেন তদন্তকারীরা।

কেন এই তল্লাশি? তৃণমূলের অন্দরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ, অভিষেক ব্যানার্জি বিধানসভার স্পিকারকে যে রেজোলিউশন কপি জমা দিয়েছিলেন, তাতে অনেক বিধায়কের সই জালিয়াতি করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা-সহ কয়েকজন বিধায়ক স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান যে, ৬ মে-র তারিখ দিয়ে যে নথি জমা দেওয়া হয়েছে, সেদিন কোনো বৈঠই হয়নি। বরং পরে সই সংগ্রহ করা হয়েছে।

অভিষেক ব্যানার্জিকে তলব ও নথি নিয়ে ধোঁয়াশা এই মামলার তদন্তে সিআইডি অভিষেক ব্যানার্জিকে মোট তিনবার হাজিরা দেওয়ার নোটিস দিয়েছিল। শেষ নোটিসে ৯ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে ভবানীভবনে হাজিরা দিতে বলা হয়। তবে অভিষেক জানিয়ে দেন যে তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না এবং বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সিআইডি-কে লিখিতভাবে জানান, ওই ‘অরিজিনাল রেজোলিউশন বুক’ তাঁর কাছে নেই।

তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য সিআইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস এবং অরূপ রায়ের মতো বিধায়করা জানিয়েছেন যে, ওই রেজোলিউশনে তাঁদের সই আসল নয় অথবা তাঁরা ১৯ তারিখের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরই তদন্তকারীরা মনে করছেন, আসল রেজোলিউশন বুকটি উদ্ধার না করলে এই জালিয়াতির জাল উন্মোচন করা সম্ভব নয়।

বর্তমান পরিস্থিতি অভিষেক ব্যানার্জির কাছ থেকে নথি না পেয়ে এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে তদন্ত থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় সিআইডি সরাসরি তল্লাশিতে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। এই তল্লাশি অভিযান রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মমতা ব্যানার্জির বাড়ির ঠিকানার সাথে যুক্ত ঠিকানায় সিআইডির এই অভিযান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।