সাগর-সেতুর জট কাটল! মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মুড়িগঙ্গা সেতু নিয়ে বড় পদক্ষেপ, খুশি সাধারণ মানুষ

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে থমকে থাকা সাগর-সেতুর কাজ এবার দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে বড় উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে যে প্রকল্পটি ঝুলে ছিল, নতুন সরকারের হস্তক্ষেপে এখন তা আলোর মুখ দেখতে চলেছে।
কেন থমকে ছিল সাগর-সেতু? কাকদ্বীপ ও সাগরদ্বীপের মাঝে মুড়িগঙ্গা নদীতে সেতু তৈরির জন্য চলতি বছরের শুরুতে শিলান্যাস হলেও, কোনো কাজ এগোয়নি। কারণ, নদীটি জাতীয় জলপথের অংশ হওয়ায় কেন্দ্রের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে সেই অনুমতির জন্য কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খোদ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছেন।
প্রকল্পের রূপরেখা প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু সড়কপথ নয়, কাকদ্বীপের সঙ্গে সাগরদ্বীপ রেলপথেও যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। প্রকল্পটি সম্পন্ন হতে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে।
L&T-এর সঙ্গে ২০ হাজার কোটির লগ্নি চুক্তি সেতু নির্মাণের পাশাপাশি রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে নির্মাণ সংস্থা লারসেন অ্যান্ড ট্যুবরো (L&T)। গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এলঅ্যান্ডটি-র চেয়ারম্যান ও এমডি এসএন সুব্রহ্মণ্যম এবং শীর্ষকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে:
-
নিউটাউনে আইটি পার্কের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ।
-
কলকাতা ও শহরতলির যানজট কমাতে রাস্তার সম্প্রসারণ ও নতুন উড়ালপুল নির্মাণ।
-
শহরের বাইরের অংশে যান চলাচলের সুবিধার্থে নতুন রিং রোড তৈরি।
দীর্ঘদিন শিল্পের জমি অধিগ্রহণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে অচলাবস্থা ছিল, নতুন সরকারের এই উদ্যোগে তা কাটবে বলেই মনে করছে শিল্পমহল। সাগর-সেতু থেকে শুরু করে আধুনিক পরিকাঠামো—মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।