কর্মী বাড়াচ্ছে টিসিএস! তবে রক্ত-মাংসের মানুষ নয়, আগামী ৩ বছরে আসছে এআই এজেন্ট

বদলে যাচ্ছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর কাজের পরিবেশ। সোমবার কোম্পানির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণ এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে টিসিএস-এর কর্মীদের সমসংখ্যক ‘এআই এজেন্ট’ (AI Agent) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ডিজিটাল কর্মী কাজে নিয়োগ করা হবে।

কেন এই উদ্যোগ? বিশ্বজুড়ে যখন মেটা, ওরাকল বা কগনিজেন্টের মতো টেক জায়ান্টরা কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে, তখন টিসিএস-এর এই ঘোষণা আইটি সেক্টরে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। তবে চন্দ্রশেখরণ একে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নয়, বরং একটি ‘বড় সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, বর্তমানে আইটি সেক্টরে এআই-এর ব্যবহার ব্যাপক গতি পেয়েছে। কোম্পানির গত চার ত্রৈমাসিকে এআই-ভিত্তিক রাজস্বের চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার (CQGR) ২২ শতাংশেরও বেশি। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে টিসিএস-এর এআই রাজস্ব ২.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ব্যবসা বৃদ্ধিতে ৫টি মূল কৌশল টিসিএস তাদের সামগ্রিক ব্যবসায়িক রূপান্তরের জন্য ৫টি প্রধান ‘এআই ড্রাইভার’-এর ওপর জোর দিচ্ছে: ১. সিস্টেম আধুনিকীকরণ: পুরনো প্রযুক্তি ও বিক্ষিপ্ত ডেটা পরিকাঠামোকে নতুন রূপ দেওয়া। ২. বিজনেস প্রসেস রিডিজাইন: সাপ্লাই চেইন থেকে কাস্টমার সার্ভিস—সব ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়ানো। ৩. নিরাপদ এআই এজেন্ট: এআই এজেন্টরা যাতে নিয়ম মেনে ও সুরক্ষিতভাবে কম খরচে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা। ৪. সবার জন্য এআই: সরকার ও নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলোর জন্য ডেটার গোপনীয়তা বজায় রেখে এআই অবকাঠামো তৈরি। ৫. ফিজিক্যাল এআই: কারখানা বা গুদামে স্বয়ংক্রিয় রোবটের ব্যবহার। উদাহরণ হিসেবে, একটি গ্লোবাল অ্যাগ্রিবিজনেস কোম্পানির গুদামে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামলাতে টিসিএস ইতিমধ্যেই চার পায়ের রোবট ব্যবহার করছে।

নিয়োগ কি কমবে? কোম্পানির পক্ষ থেকে সরাসরি ছাঁটাইয়ের কথা না বলা হলেও, এআই এজেন্ট ব্যবহারের ফলে কাজের ধরনে যে আমূল পরিবর্তন আসবে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী এন্টারপ্রাইজ আইটি শিল্পের বাজার ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করছে টিসিএস। তাদের দাবি, মানুষের পাশাপাশি এই এআই এজেন্টরা কাজ করলে কাজের দক্ষতা বহুগুণ বাড়বে।