তৃণমূলে ফাটল চওড়া! “দল কথা শোনে না,” মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শতাব্দী রায়

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার প্রকাশ্যে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সরাসরি দল থেকে আলাদা হয়ে কাজ করার ইঙ্গিত দিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। শুধু তাই নয়, আসন্ন দিনে এনডিএ (NDA)-র অংশ হিসেবে আলাদা ব্লক তৈরি করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কী বললেন শতাব্দী? এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন, “তৃণমূলের মূল টিমে আমরা আর নেই। আমরা আলাদা ব্লক তৈরি করে কাজ করতে চাই। দলের ভেতরে আমাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই, তাই এই সিদ্ধান্ত।” তাঁর কথায়, ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই এই বিদ্রোহে শামিল হয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় দলের অন্দরে ক্ষোভ কতটা গভীর।
বৈঠক থেকেই ক্ষোভের সূত্রপাত: ৪ জুন নির্বাচনের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠককে কেন্দ্র করেই এই বিদ্রোহের সূচনা বলে জানান শতাব্দী। তাঁর অভিযোগ, হারের কারণ বিশ্লেষণের জন্য যে বৈঠক ডাকার কথা ছিল, সেখানে সাংসদদের কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি। শতাব্দী বলেন, “যে কেউ কিছু বলতে গেলেই বলা হচ্ছে ‘লিখে পাঠাও’। ১৭ বছর ধরে চিঠি লিখেছি, আর নয়। বিপর্যয়ের পর অন্তত কারণ বিশ্লেষণ করা উচিত ছিল, কিন্তু সেই সুযোগটুকুও দেওয়া হলো না।”
বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘সংকট’? সাংসদের অভিযোগ, প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে এলাকায় সাংগঠনিক সমস্যা—কোনো বিষয়েই শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনা করতে আগ্রহী নন। দল তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ায় আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা আজ এই বিদ্রোহে শামিল হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের পরও উপেক্ষিত বোধ করছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত: তৃণমূলের সাংসদদের একটি বড় অংশ যে এনডিএ-র দিকে ঝুঁকছে, শতাব্দীর এই মন্তব্য তাকে আরও জোরালো করল। এখন দেখার, তৃণমূলের ব্লক থেকে বেরিয়ে এই নতুন ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা নেয়।
সাংসদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য যে তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিদ্রোহ সামলাতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।