বিশ্বে দুই নম্বরে ভারত! ডেটিং অ্যাপ থেকে সোজা বিছানায়! তরুণদের মধ্যে বাড়ছে সংক্রমণ, চিন্তায় প্রশাসন

কর্ণাটকে এইচআইভি (HIV) ও এইডস (AIDS) আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্ণাটক স্টেট এইডস প্রিভেনশন সোসাইটি (KSAPS)। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত তিন বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজারের ঘর থেকে ৬৬ হাজার পেরিয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে?
KSAPS-এর তথ্য অনুযায়ী:

২০২৩-২৪: ৪৪,৫৮১ জন

২০২৪-২৫: ৬২,৬৬৪ জন

২০২৫-২৬: ৬৬,৬০০-এর বেশি

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের হার। গত অর্থবর্ষে এই বয়সী ১৪,৫৫৫ জন মানুষ এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, যা আগের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

কেন বাড়ছে সংক্রমণ? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
প্রখ্যাত সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. স্বাতী রাজগোপালের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এই বিপদের অন্যতম কারণ। ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই সঙ্গী নির্বাচন এবং কন্ডোম ব্যবহারে অনীহা সংক্রমণ দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া সিফিলিস বা গনোরিয়ার মতো অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ (STI) সময়মতো চিকিৎসা না করার ফলে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী গনোরিয়া চিকিৎসকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্ণাটক সরকার জোরদার সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে:

সচেতনতা অ্যাপ: ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে সাধারণ মানুষকে ‘ব্রেকফ্রি’ (BreakFree) অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক: তরুণদের সচেতন করতে রাজ্যে ৪৪২টি ‘রেড রিবন ক্লাব’ কাজ করছে।

সহায়তা: যেকোনো প্রয়োজনে ১০৯৭ হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে।

কর্পোরেট ক্যাম্প: বিভিন্ন অফিস ও হোস্টেলে নিয়মিত স্ক্রিনিং ও টেস্টিং ক্যাম্পের আয়োজন করছে প্রশাসন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নিয়ম মেনে চলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙার একমাত্র উপায়। অযথা ভয় না পেয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কর্ণাটক সরকার।